সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ তিনি ছিলেন বংলা টেলিভিশনের প্রথম ‘অসুর’। সকল বাঙালির কাছে তিনি ‘অমল অসুর’ (Amal Asur) বলেই পরিচিত। কিন্তু পথচলা থামল এবার তাঁর। প্রয়াত হলেন অমলকুমার চৌধুরী। আজ বুধবার পৌষ সংক্রান্তির দিন পরলোকগমন করলেন তিনি। তাঁর মৃত্যু আপামর বাঙালির কাছে যে এক বড় ধাক্কার বিষয় তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।
প্রয়াত ‘অসুর’ অমল চৌধুরী
মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। প্রথমে অমল চৌধুরী ‘মহালয়া’-র অসুরের ভূমিকায় অভিনয় করতেন। ৯০-এর দশকে মহালয়া শুরু হলেই তাঁকে দেখা যেত অসুরের ভূমিকায়। আজও মহালয়ার ভোরে ডি ডি বাংলার পর্দায় যখন সেই ৯০-এর দশকের মহালয়া শুরু হয় তখন অমল চৌধুরীর সেই অসুর হাসি শোনা যায়। যাইহক পরে তাঁকে যমরাজের চরিত্রেও দেখা গিয়েছে। শুধু মহালয়া নয়, পরবর্তীকালে নামী অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সঙ্গে ধারাবাহিক, সিনেমায় কাজ করেছেন। তবে আচমকা আজ পথচলা থামল তাঁর।
আরও পড়ুনঃ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতেই বড় সিদ্ধান্ত দেবলীনা নন্দীর
পর্দায় এত জনপ্রিয়তা থাকলেও কালের নিয়মে তিনিও হারিয়ে গিয়েছিলেন। দূরে ছিলেন লাইমলাইটের থেকেও। এক সময়ে অসুরের রূপে পর্দা কাঁপানো অভিনেতার জীবনের শেষ দিকের সময়টা খুবই খারাপ কাটছিল বলে খবর। হাতে কোনও কাজ ছিল না। কোনওরকমের দিন কাটছিল বলে খবর।
শেষ জীবনে চলছিল সংগ্রাম
অশোকনগরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিলেন অভিনেতা অমল চৌধুরী । এলাকায় তিনি ‘অমল অসুর’ নামেই পরিচিত। কিন্তু, একসময় মাথা ভর্তি কোঁকড়া চুল, পেশিবহুল বিরাট আকারের চেহারায় দেখা মানুষটার শরীর ভেঙে গিয়েছিল। দীর্ঘদিন হয়ে গেল হাতে কোনও কাজ ছিল না। দুবেলা খাবার আদৌ জুটবে কিনা তা নিয়ে নিশ্চয়তা ছিল না। আত্মীয়রাও তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। বাড়ির অবস্থা ভগ্নপ্রায় । অসুস্থ দিদিকে নিয়ে কোনওরকমে দিন কাটাচ্ছিলেন অমলবাবু। সরকারের পক্ষ থেকেও কোনও সাহায্য করা হয়নি বলে অভিযোগ । হাতেগোনা কয়েকটি আঁকার টিউশনি করেই যা আসত,তা দিয়েই কোনওরকমে চলছিল দু’জনের সংসার। তবে এবার সব শেষ, প্রয়াত হলেন ‘অমল অসুর।’