আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: দুর্গাপুজোর (Durga Puja) প্রশাসনিক অনুমতি নিতে চালু হয়েছে ‘সহজ’ পোর্টাল (Sahaj Portal)। সোমবার থেকে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হতেই আরামবাগ (Arambagh) মহকুমার বিভিন্ন পুজো কমিটি নড়েচড়ে বসেছে। কারণ, পোর্টালের মাধ্যমে আগে অনুমতি পেতে হবে, তারপরেই মিলবে রাজ্যের তরফে পুজো পরিচালনার আর্থিক সহায়তা। এই বছর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) পুজো কমিটিগুলিকে এক লক্ষ টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। ফলে আর এক মুহূর্তও সময় নষ্ট না করে প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করে আবেদন করতে শুরু করেছেন উদ্যোক্তারা। মঙ্গলবার পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অনলাইনে আবেদনের সংখ্যায় এগিয়ে রয়েছে গোঘাট থানা।
নজরদারিতে নোডাল অফিসার
পুজোর অনুমতির প্রক্রিয়া যাতে সহজে সম্পন্ন হয়, তার জন্য প্রতিটি থানায় একজন করে নোডাল অফিসার রাখা হয়েছে। আবেদনকারীদের জমা দেওয়া নথি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি পোর্টালে আবেদন করার পদ্ধতি নিয়েও তাঁদের সহযোগিতা করা হচ্ছে। হুগলি গ্রামীণ পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত গোঘাট থানায় ২৭টি আবেদন জমা পড়েছে। আরামবাগ থানায় ২২টি এবং খানাকুল থানার বিভিন্ন এলাকা থেকে ২৪টি আবেদন এসেছে। পুরশুড়া থানায় এখনও পর্যন্ত জমা পড়েছে ১৭টি আবেদন।
পুজোর অনুমতির জন্য এবার অনলাইন আবেদনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় নথিও পোর্টালে আপলোড করতে হচ্ছে উদ্যোক্তাদের। এর মধ্যে আগের বছরের প্রশাসনিক অনুমোদন-সহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই পুজো কমিটিগুলিকে নিয়ে বৈঠক করে গোটা প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানানো হয়েছিল। এখন আবেদন শুরু হওয়ায় ফের উদ্যোক্তাদের বিষয়টি মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। জমা পড়া আবেদন ও নথি যাচাইয়ের পরই প্রশাসনের তরফে পুজোর চূড়ান্ত অনুমতি দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: ১৮ বছরেই চলে যায় বাবা, ভারতের হয়ে এশিয়ান গেমসে পদক জিতলেন ‘UBER ক্যাব চালক’
আরামবাগের বিদ্যাসাগর পল্লি সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির সম্পাদক মানসী সাঁতরা জানিয়েছেন, তাঁরা ইতিমধ্যেই অনলাইনে আবেদন করে প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করেছেন। অন্যদিকে মানিক সংঘ পুজো কমিটির সম্পাদক অভিষেক সরকারও জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রয়েছে এবং শীঘ্রই আবেদন করা হবে। দুয়ের পল্লির উদ্যোক্তা সুবীর দে জানান, পোর্টালে আবেদন করার আগে বিভিন্ন দপ্তরের থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি সংগ্রহ করা হচ্ছে। আরামবাগ মহকুমায় প্রতিবছর ২০০টির বেশি দুর্গাপুজো হয়। এবার নতুন পুজো কমিটিগুলিও সমানতালে অনুমতির জন্য আবেদন করছে।