আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: দুর্গাপুজো মানেই নতুন জামাকাপড়, প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘোরা আর উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠা। তার ওপর এই বছর মা আরও একদিন বেশি থাকছেন। তাই এবারের পুজোটা মানুষের কাছে একটু বেশিই আনন্দের। কিন্তু নিজের এলাকায় কোনও পুজো না হলে সেই আনন্দের অনেকটাই অসম্পূর্ণ থেকে যায়। দীর্ঘদিনের সেই আক্ষেপ দূর করতে এবার অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন আলিপুরদুয়ার ১ ব্লকের পারপাতলাখাওয়া (Parpatlakhawa) এলাকার মহিলারা। অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) টাকা কাজে লাগিয়ে নিজেদের গ্রামেই প্রথমবার দুর্গাপুজোর (Durga Puja) আয়োজন করতে এগিয়ে এসেছেন তাঁরা।
পুজোর বাজেট কত?
প্রায় ৫০ জন গৃহবধূর উদ্যোগে সম্পূর্ণ মহিলা পরিচালিত এই পুজোর বাজেট রাখা হয়েছে ৭৫ হাজার টাকা। সরকারি প্রকল্পের আর্থিক সহায়তাকে কীভাবে মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এবং নিজেদের স্বপ্নপূরণের কাজে লাগানো যায়, এই উদ্যোগ যেন তারই একটি উদাহরণ। পুজোর জন্য শুধু অর্থের জোগান দেওয়াই নয়, মহিলাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই হয়ে উঠেছে এই আয়োজনের মূল শক্তি। সীমিত বাজেটের মধ্যেই শারদোৎসবের আয়োজন করে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবকে নিজেদের গ্রামে উদযাপন করার সুযোগ করে দিয়েছে গৃহবধূরা।
অন্নপূর্ণা যোজনার মাধ্যমে মহিলাদের হাতে আসা অর্থ তাঁদের কাছে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নেরও সুযোগ তৈরি করেছে। সেই অর্থের একটি অংশ কাজে লাগিয়ে দুর্গাপুজোর উদ্যোগ নিয়েছে তারা। মাসিক আর্থিক সহায়তার টাকা একত্র করে কীভাবে একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজন গড়ে তোলা যায়, পারপাতলাখাওয়ার মহিলাদের এই উদ্যোগ সেই প্রশ্নেরই ইতিবাচক উত্তর দিচ্ছে।
দুর্গাপুজো বাংলার মানুষের কাছে শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি বহু জাতির মানুষের মিলনক্ষেত্র। একটি পুজোকে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে ভালোবাসা আরও দৃঢ় হয়, মানুষ একে অপরের সঙ্গে আরও বেশি একাত্ম হওয়ার সুযোগ পায়। সেই দিক থেকেও পারপাতলাখাওয়ার মহিলাদের উদ্যোগ তাৎপর্যপূর্ণ। ৭৫ হাজার টাকার সীমিত বাজেটে প্রথমবার পুজোর আয়োজন তাঁদের কাছে নিছক উৎসব পালন নয়, নিজেদের উদ্যোগে একটি স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টা। প্রত্যেক মহিলা তাদের প্রকল্পের অর্ধেক টাকা, অর্থাৎ দেড় হাজার টাকা করে এই পবিত্র কাজে অনুদান হিসেবে দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: পাহাড়, মেঘ আর সবুজ চা বাগান! ঘুরে আসুন দার্জিলিংয়ের সুন্দর পোখরিয়াবং
অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা দিয়ে পুজোর আয়োজনের এই প্রবণতা রাজ্যের অন্য এলাকাতেও দেখা যাচ্ছে। হুগলি, নদিয়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরের বিভিন্ন গ্রামে মহিলারা নিজেদের উদ্যোগে দুর্গাপুজোর আয়োজন করছেন। কোথাও কয়েক দশক ধরে পুজো না হওয়ার আক্ষেপ মেটাতে, কোথাও আবার গ্রামের মহিলাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শুরু হচ্ছে নতুন উৎসব।