প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) টাকা ঢুকতেই এবার উৎসবের আমেজ দেখা গেল পূর্ব বর্ধমানের আউসগ্রামে (Ausgram)। শুধু তাই নয়, মহিলাদের একত্রিত করতে ব্যবহার করা হল মসজিদের মাইক। গেরুয়া আবিরের মাধ্যমে রীতিমতো অকাল হোলিতে মাতলেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি তিন হাজার টাকা (Annapurna Yojana Money) ঢুকে যাওয়ায় লাড্ডু বিতরণও করা হল পাড়ায় পাড়ায়। ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল সেই উৎসবের একাধিক ছবি ও ভিডিও।
গেরুয়া আবিরে মাতলেন মুসলিম মহিলারা
বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসতেই মহিলাদের জন্য অন্নপূর্ণা যোজনায় মাসে ৩,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের অসংখ্য মহিলা এই সরকারি ভাতার সুবিধা পাচ্ছেন। আর এবার অন্নপূর্ণা যোজনার এক ভিন্ন ছবি দেখা গেল পূর্ব বর্ধমান জেলার আউসগ্রাম বিধানসভার উত্তর বটগ্রাম অঞ্চলে। গত শনিবার, সেখানকার সংখ্যালঘু মুসলিম মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার ৩০০০ টাকা ঢুকেছিল। আর সেই আনন্দে রীতিমত গেরুয়া উৎসব পালন করলেন তাঁরা। গেরুয়া আবিরের মাধ্যমে রীতিমত অকাল দোলউৎসব পালন করেছিলেন তাঁরা, সঙ্গে চলেছিল দেদার মিষ্টিমুখ।
উৎসবের আনন্দে ব্যবহার হল মসজিদের মাইক
অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বিগত কয়েক মাসে বিভিন্ন ধরনের চিত্র সামনে এসেছে। অনেকের প্রতি মাসে ৩০০০ হাজার টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকলেও এখনও সেই সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত বহু মহিলা। আউসগ্রাম বিধানসভার উত্তর বটগ্রাম অঞ্চলেও অনেকেই প্রথম থেকে পাচ্ছিলেন না এই সুবিধা। কিন্তু গত শনিবার থেকে অনেকের অ্যাকাউন্টে ঢুকতে থাকে কড়কড়ে ৩০০০ হাজার টাকা। আর তারপরেই মহিলাদের মধ্যে খুশির আমেজ দেখা যায়। শুধু তাই নয় এই উৎসবের আনন্দে সকলকে একসঙ্গে আহ্বান জানানোর জন্য ব্যবহার করা হয় মসজিদের মাইক। আর সেই ঘোষণা শুনেই সকলে মিলে শুরু করে গেরুয়া উৎসব।
আরও পড়ুন: পুজোর আগে মদের দোকানের লাইসেন্সে বড় রদবদল, বাড়ল দূরত্বের মাপকাঠি
সরকারি যোজনার টাকা পেয়ে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক মুসলিম মহিলা জানিয়েছেন, “ আমরা খুব খুশি, শুভেন্দু অধিকারীর সরকার যে এইভাবে আমাদের পাশে থেকেছেন, তার জন্য আমরা খুবই আপ্লুত। আশা রাখছি ভবিষ্যতেও আমাদের পাশে থাকবেন।” অন্যদিকে আবার অনেক হিন্দু মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা জমিয়ে গ্রামে গ্রামে দুর্গাপুজোর আয়োজন করেছেন, যার মধ্যে অন্যতম হল হুগলির পাণ্ডুয়ার সিমলাগড় গোয়ারা হাটপুকুর গ্রাম। প্রত্যেক বছর ধুমধাম করে কালীপুজো হলেও হত না দুর্গাপুজো। তবে এবার গ্রামের মহিলারা গত দু’-তিন মাসের অন্নপূর্ণা যোজনার জমানো টাকা দিয়েই পালন করবেন অনুষ্ঠান।