প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: জন্মদিনের রাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বাড়ির সামনে সংঘর্ষ হতেই চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এলাকা জুড়ে। তৃণমূল ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ, ধস্তাধস্তিতে কালীঘাটে (Kalighat) আহত হয়েছিলেন বেশ কয়েকজন। ঘটনায় চরম ক্ষুব্ধতা প্রকাশ করে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশের সঙ্গেও তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। এমতাবস্থায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের কিছু পদক্ষেপের কারণে স্থানীয় মৃৎশিল্পীরা (Kalighat Potters) পড়েন বিপাকে।
অভিষেকের জন্মদিনে তুমুল অশান্তি কালীঘাটে
গতকাল অর্থাৎ ৭ নভেম্বর শনিবার ডায়মন্ডহারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৩৯তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাট রোড সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক তোড়জোড় ও উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছিল। সেই কারণে গত শুক্রবার রাতে তাঁর বাড়ির সামনে দলীয় কর্মীরা শুভেচ্ছা জানানোর জন্য দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু সেই সময় পিছন থেকে বিজেপির কর্মীদের তরফে চোর স্লোগান ওঠে, আর তাতেই দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল ধস্তাধস্তি শুরু হয়। ঘটনাটি এমন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল পুলিশেরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে বেগ পেতে হয়েছিল। আর এরপরেই পুলিশ ওই এলাকায় শান্তি বজায় জন্য একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে।
ক্ষুব্ধ মৃৎশিল্পীরা
জানা গিয়েছে, গতকাল, শনিবার অভিষেকের জন্মদিন উদযাপনের জন্য কালীঘাট পটুয়াপাড়া ও সংলগ্ন রাস্তায় বড় বড় কাটআউট, ব্যানার লাগানোর পাশাপাশি কড়া পুলিশি নিরাপত্তা ও ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছিল। যার ফলে বিপাকে পড়েন মৃৎশিল্পীরা। বানানো কালী মায়ের মূর্তিগুলো ক্রেতাদের হাতে তুলে দিতে তাঁরা পারছেন না। গাড়ি আটকে দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ পটুয়াপাড়ায় ক্রেতাদের ঢোকা এবং মৃৎশিল্পীদের তৈরি প্রতিমা বাইরে বের করে নিয়ে যাওয়ার স্বাভাবিক পথ কার্যত রুদ্ধ হয়ে গিয়েছে। বাধ্য হয়ে প্রতিমা না নিয়েই ফিরে যাচ্ছেন ক্রেতারা। এদিকে ব্যবসার এই হাল দেখে রীতিমতো কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মৃৎশিল্পীরা।
আরও পড়ুন: অসুস্থ শরীরেও দায়িত্ব ভোলেননি রচনা, ছেলের হাত দিয়ে রোগীদের জন্য পাঠালেন ফল-মিষ্টি
ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ মৃৎশিল্পীদের
মৃৎশিল্পীদের দাবি, “এই ব্যবসা করেই আমাদের পেট চলে। কিন্তু দিনের পর দিন এই রাজনৈতিক কারণে আমাদের ব্যবসা লাটে উঠছে। এতদিন ধরে যে পরিশ্রম করে আমরা সকলে মায়ের প্রতিমা বানালাম আজ সেই প্রতিমা বিক্রি করতে পারছিনা এদের জন্য। শুধু তাই নয়, দিন রাতের পরিশ্রমের ফল পাচ্ছি এই লাঞ্ছনা, অপমান। এখন আমাদের লাভের টাকা না উঠলে গলায় দড়ি দিয়ে মরতে হবে।” অর্থাৎ রাস্তা বন্ধ থাকায় তাঁদের তৈরি প্রতিমা সরবরাহ ও কেনাবেচায় যে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে তা বেশ বোঝা যাচ্ছে।
প্রতি বছর কালীঘাট পটুয়াপাড়া এলাকায় বিভিন্ন পুজোর জন্য দেব দেবীদের প্রতিমা বানাতে হয়। কিন্তু কালীপুজোর মরশুমে এইভাবে ব্যবসা মাঝখানে থেমে যাওয়ায় রীতিমতো ক্ষুব্ধ সকলে। এদিকে সামনেই আছে জগদ্ধাত্রী পূজা এবং কার্তিক পূজার মরশুম, এই সময় যদি রাজনৈতিক কারণে সমস্যায় পড়তে হয় তাহলে ব্যবসা পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন মৃৎশিল্পীদের একাংশ।