সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: গতকাল রাতে ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের (Abhishek Banerjee) পার্টি অফিসে ঘটে রহস্যময় কাণ্ড। ভোররাতে আচমকা ৬ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তি ওই পার্টি অফিসে ঢুকে ভাঙচুর চালায় বলেই অভিযোগ তোলেন তৃণমূল সাংসদ। এমনকি বিজেপির বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগের আঙুল তুলে দাবি করেন, “ভোররাতে আমার দলের কার্যালয়ে বিজেপি ভাঙচুর চালিয়েছে।” এমনকি তিনি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল, দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তবে অভিষেকের সেই পার্টি অফিস থেকে এবার একে একে মালপত্র প্রিজন ভ্যানে তুলল পুলিশ।
অভিষেকের পার্টি অফিসের মালপত্র প্রিজন ভ্যানে তুলছে পুলিশ
গতকাল ওই পার্টি অফিসে ভাঙচুরের ঘটনায় আজ ফের পোস্ট করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ তোলেন, “বিজেপির সুশাসন। একেবারে ডাবল ইঞ্জিন কায়দায়। ভাঙচুর, হিংসা এবং অরাজকতা। গত এক মাসে আমার আমতলা এবং ক্যামাক স্ট্রিট দুটি অফিসেই ভাঙচুর আর লুটপাট চালানো হয়েছে। পুলিশ এবং বিজেপির গুন্ডাদের মধ্যে আইন বা বিচার ব্যবস্থা, কিছুর ভয় রয়েছে বলে আমার মনে হয় না। যদি এই ঘটনা বিচার ব্যবস্থার বিবেককে না নাড়ায়, তাহলে আর কী দেবে?”
প্রসঙ্গত, গতকাল ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দুষ্কৃতীরা দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে সেখানকার আসবাবপত্র ভাঙচুর করে, গোটা অফিস তছনছ করে এবং ইলেকট্রিক সরঞ্জাম নষ্ট করে বলেই অভিযোগ তোলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ৬ জন অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি ওই ভাঙচুরের সময় উদ্ধার হওয়া মালপত্র পুলিশকে আজ প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে যেতেও দেখা গিয়েছে। এই ঘটনায় রাজ্য-রাজনীতিতে ছড়িয়ে পড়েছে চাঞ্চল্য।
আরও পড়ুন: ফিরহাদের বিরুদ্ধে ওয়াকফ সম্পত্তি দখলের অভিযোগ, প্রাক্তন মেয়রের ২ সংস্থায় চলছে তল্লাশি
উল্লেখ্য, দিন কয়েক আগেই ক্যামাক স্ট্রিটের এই পার্টি অফিসে পুরসভার আধিকারিকরা পুলিশ বাহিনী নিয়ে গিয়ে অবৈধভাবে বিলবোর্ড লাগানো রয়েছে অভিযোগ তুলে তা খুলে দেয়। এমনকি এ নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন যুবরাজ। পাশাপাশি সরকারি আধিকারিকদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে এফআইআর দায়ের হওয়ায় শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজিরা দিতে হয়েছিল অভিষেককে।