অরুণাচল প্রদেশে ১৫টি অবৈধ মসজিদে তালা ঝোলাল সরকার

অনন্যা সরকার, কলকাতাঃ অরুনাচল প্রদেশের (Arunachal Pradesh) রাজধানী ইটানগরে ১৫টি অবৈধ মসজিদে (Illegal Mosques) তালা ঝোলালো রাজ্য সরকার। স্থানীয় অধিবাসীরা দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ বসতি করে ওঠা ও জনসংখ্যাগত পরিবর্তন নিয়ে অভিযোগ তুলছিলেন। এই আবহেই এবার বিরাট বড় পদক্ষেপ নিল মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু (Pema Khandu) সরকার। স্থানীয় আদিবাসী যুব সংগঠন এপিআইওয়াইও-এর ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে চিহ্নিত ১৫টি স্থানই সিল করা হয়েছে। 

অবৈধ নির্মাণ রুখতে সরকারের কড়া পদক্ষেপ 

অরুণাচল প্রদেশ ইন্ডিজেনাস ইয়ুথ অর্গানাইজেশন দীর্ঘদিনই রাজ্যের মধ্যে এলাকায় অবৈধ জবরদখল ও অনুমোদনহীনভাবে ধর্মীয় কাঠামো গড়ে তোলার বিরুদ্ধে  প্রতিবাদ করে আসছে। সম্প্রতি সংগঠনটি ইটানগর রাজধানী অঞ্চলে ২৪ ঘণ্টা ব্যাপী বনধ পালন করে এবং পূর্ণ না করা হলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছিল। 

গতকাল (৪ জুন) রাজ্য সরকার মুখপাত্র ও শিক্ষামন্ত্রী পাসাং দর্জি সোনা জানিয়েছেন যে, এবছর জানুয়ারি মাসে এপিআইওয়াইও-র প্রতিনিধিদের সাথে মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু বৈঠকে বিষয়টি নজরে আনা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী জেলা জেলা প্রশাসনকে দরকারি অনুমোদন ছাড়া গড়ে ওঠা ধর্মীয় স্থাপনাগুলির সনাক্ত করার নির্দেশ দেন এবং এই তদন্তে এরকম ১৫টি মসজিদের সন্ধান পাওয়া গেছে। পি.ডি. সোনা জানান, এই বিষয়ে উপযুক্ত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ১২টি মসজিদ সিল করে সেগুলি খালি করে দেওয়া হয়। আর বাকি তিনটি নিয়ে ১ জুন এপিআইওয়াইও-র প্রতিনিধি ও মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে পুনরায় আলোচনা হয় এবং সেগুলিতেও তালা ঝুলিয়েছে সরকার। 

এই পরিস্থিতিতে অরুণাচল প্রদেশে ডেমোগ্রাফির পরিবর্তন, অবৈধ জবরদখল ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা ও অধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। গত মে মাসে মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডুর উদ্যোগে একটি উচ্চ পর্যায়ের পরামর্শ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন যে, অবৈধ অভিবাসন ও জনসংখ্যাগত পরিবর্তন সম্পর্কিত সমস্যাগুলির মোকাবিলার পাশাপাশি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তার সরকার দৃঢ়-প্রতিজ্ঞ। 

আরও পড়ুনঃ কল মিস্ত্রির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২৯৪ কোটি ৮০ লক্ষ! ব্যালেন্স চেক করতে গিয়ে চক্ষু চড়কগাছ

সমস্যা সমাধানের জন্য, সরকার বেশ কয়েকটি পদক্ষেপও নিয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হল ইনার লাইন পারমিট (ILP) ব্যবস্থার তদারকি এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের জন্য পৃথক একটি বিভাগ তৈরির সিদ্ধান্ত। নতুন বিভাগ চালু হলে নজরদারি আরো দৃঢ় হবে এবং নিয়ম প্রতিপালন করাও আরও সহজ হবে বলে মত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। 

Leave a Comment