সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আজ থেকে ঠিক দুই শতাব্দীর বেশি আগে অর্থাৎ ১৮২০ সালের ২৮ জানুয়ারি মানব সভ্যতার ইতিহাসে ছিল এক যুগান্তকারী দিন। কারণ, এই দিন প্রথমবার মানুষের চোখে ধরা দিয়েছিল পৃথিবীর সবথেকে বিচ্ছিন্ন ও শীতল মহাদেশ আন্টার্টিকা (Antarctica Discover History)। এর আগে এই বিশাল ভূখণ্ডের কোনও অস্তিত্ব ছিল না। যা ছিল তা শুধুমাত্রই অনুমান, নিশ্চিত কোনও প্রমাণ নয়।
কারা প্রথম দেখেছিল আন্টার্টিকা?
পুরনো কাসুন্দি ঘেঁটে জানা যাচ্ছে, আন্টার্টিকার প্রথম নিশ্চিত দর্শনের কৃতিত্ব গিয়েছিল রাশিয়ার দুই অভিযাত্রী ফাদেই ফাদেইয়েভিচ বেলিংসহাউজেন এবং মিখাইল লাজারেভের মুকুটে। তাঁদের নেতৃত্বেই ইতিহাসখ্যাত এই রুশ আন্টার্টিকা অভিযান শুরু হয়। সেই কারণে আজ অর্থাৎ ২৮ জানুয়ারি অনেক দেশে “আন্টার্কটিকা ফাউন্ডেশন ডে” হিসেবে পালন করা হয়।
কীভাবে শুরু হয়েছিল অভিযান?
জানা যায়, রাশিয়ার সম্রাট আলেকজান্ডার প্রথম দক্ষিণ অঞ্চলের অজানা ভূখণ্ড সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন। তাঁর নির্দেশেই ১৮১৯ সালের ৪ জুলাই রাশিয়ার ক্রনস্টাড্ট বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল দুটি জাহাজ। যথাঃ ভস্তক ও মিরনি। এই অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বালটিক জার্মান বংশোদ্ভূত রুশ নৌ-অফিসার ফাবিয়ান গটলিয়েব ভন। পাশাপাশি তাঁর সঙ্গে ছিলেন মিখাইল লাজারেভ।
তবে প্রায় দু’বছর ধরে ভয়াবহ ঝড়, তুষার ঝড় এবং বিপজ্জনক বরফ স্তরের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন তাঁরা। অবশেষে ১৮২০ সালের ২৮ জানুয়ারি দক্ষিণ অক্ষাংশের ৬৯°২১′২৮″ অঞ্চলে পৌঁছে তাঁরা বিশাল এক বরফের প্রাচীর দেখতে পান। এই বরফের স্তরকে তাঁরা নাম দিয়েছিলেন মাতেরি লেদ, যার অর্থ বরফের মালভূমি। তখন তাঁরা বুঝতে পারেন যে এটি কোনও সাধারণ বরফখন্ড নয়, বরং এটি বৃহৎ ভূখণ্ডের সঙ্গেই জড়িত। পরবর্তীকালে গবেষণা করে জানা যায়, এই দৃশ্যটি ছিল আন্টার্কটিকার প্রথম প্রত্যক্ষ দর্শন।
এদিকে বেলিংসহাউজেন ছিলেন আন্টার্টিকার প্রথম অভিযাত্রী, যিনি ক্যাপ্টেন কুকের পর আবার আন্টার্কটিকার সার্কেল অতিক্রম করেছিলেন। সবথেকে বড় ব্যাপার, তিনি গোটা আন্টার্টিকা মহাদেশকে দু’বার প্রদক্ষিণ করেন, এবং আন্টার্টিকার একাধিক স্থান ও দ্বীপের নামকরণ করেন। যেমন পিটার আই দ্বীপ, আলেকজান্ডার উপকূল ইত্যাদি।
আরও পড়ুন: বিয়ের মরসুমে লাগামছাড়া বাড়ল সোনা, রুপোর দাম! আজকের রেট
তবে ইতিহাস অনুযায়ী, ৩০ জানুয়ারি ১৮২০ অর্থাৎ দু’দিন পর ব্রিটিশ নাবিক এডওয়ার্ড ব্র্যান্সফিল্ড আন্টার্কটিকার উপদ্বীপের ট্রিনিটি ল্যান্ড দেখতে পেয়েছিলেন। আর একই বছরের নভেম্বর মাসে দক্ষিণ আমেরিকার সিল শিকারি নাথানিয়েল পামারও আন্টার্টিকার কাছাকাছি ভূখণ্ড দেখারদাবি করেছিলেন। কিন্তু নথিভুক্ত এবং বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত প্রথম দর্শনের কৃতিত্ব এখনও পর্যন্ত সেই রুশ অভিযানের হাতেই রয়েছে। সেই কারণেই এই বিশেষ দিনটিকে পালন করা হয় বিভিন্ন জায়গায়।