“আজকে যদি সেটিং আমি নিজে করে নিতাম…” লাইভে এসে বিস্ফোরক মমতা

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: এক একটা করে দিন যাচ্ছে আর সঙ্গী হারাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ছাব্বিশের নির্বাচনে ভরাডুবির পর একে একে আদি তৃণমূল (Trinamool Congress) ছেড়েছেন একাধিক জয়ী বিধায়ক থেকে শুরু করে প্রাক্তন মন্ত্রীরা। মমতার সঙ্গ ছেড়েছেন তৃণমূলের টিকিটে জয়ী 20 জনের বেশি সাংসদ। সময় যত গড়াচ্ছে তালিকাটা ততই লম্বা হচ্ছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় বুধবার, মমতার দল ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে নাম লিখিয়েছেন দীর্ঘদিনের সঙ্গী মদন মিত্র। আর সেই ধাক্কার পরই নিজের ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে এসে বিরোধী শিবিরকে একহাত নিলেন মমতা।

বেইমানদের নিয়ে বিজেপিকে তুলোধোনা মমতার!

রবিবার, সবচেয়ে কাছের সঙ্গী মদন মিত্র কালীঘাট তৃণমূল ত্যাগ করতেই ফেসবুক লাইভে এসে প্রথমেই বেইমানদের জন্য সাধারণ মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, “আমার কাউকে প্রয়োজন নেই। মনে রাখবেন এই অফিস থেকেই আমি তৃণমূলটা বানিয়েছিলাম। 1984 তে.. আমরা সংগ্রাম করা মানুষ। আজ যে সব বেইমানরা বিজেপির পালে দোল খাচ্ছে তাঁদের অনেক লাগেজ ব্যাগেজ আছে! আমি এসব জানতাম না।”

এদিন ফেসবুক লাইভে বাংলার মানুষের কাছে একেবারে হাতজোড় করে ক্ষমা চেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি আপনাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী এই বেঈমানদের জন্য। আপনারা এদের তৃণমূলের টিকিট জিতিয়েছিলেন!” এরপরই বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেন মমতা। কালীঘাট তৃণমূলের প্রধান মুখ জানান, বিজেপি এখন প্রতিবাদীদের ধরে ধরে অন্যায় ভাবে জেলে ভরছে। রবিবার, নিজের ফেসবুক লাইভ থেকে বাংলার পুলিশ অফিসারদেরও নিশানা করেন মমতা।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পুলিশ বিজেপির কথায় সবাইকে গিয়ে ভয় দেখায়। আইসিরা হয়েছেন বিজেপির ব্লক সভাপতি এবং এসপিরা হয়েছেন বিজেপির জেলা সভাপতি। তাঁরা এলাকায় এলাকায় গিয়ে আমার এমএলেদের ভয় দেখাচ্ছে। কর্মীদের ভয় দেখাচ্ছে। মিউনিসিপ্যালিটি ভেঙে দিচ্ছে, জেলা পরিষদ, গ্রাম সভা ভেঙে দিচ্ছে! বলছে, ওই শিবিরে যাও.. বিজেপির কোলে যাঁরা দুলছে… তৃণমূলটাকে ভাঙো। আর তা না হলে জেলে যাও।”

অবশ্যই পড়ুন: কলকাতা থেকে দিল্লি, মুম্বাই, পুরী! চালু হল বিলাসবহুল বাস পরিষেবা, জানুন ভাড়া

এদিন মমতা এও বললেন, “আমাদের শয়ে শয়ে কর্মী জেলে রয়েছেন। সংখ্যাটা হাজার হাজারও হতে পারে। তাঁরা যেভাবে জেলে থেকে লড়াই চালাচ্ছেন আমি তাঁদের কুর্নিশ জানাই।” এরপরই তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, “আজকে যদি সেটিংটা আমি করে নিতাম তাহলে তো আমাদের এই অত্যাচার সহ্য করতে হতো না। কিন্তু আমি কোনও দিন আদর্শকে বিকিয়ে খাই না।”

সবশেষে এদিন মমতার একেবারে স্পষ্ট বক্তব্য, সকলে চলে গেলেও তাঁর কর্মীরা তাঁর সঙ্গে থেকে যাবেন। তাঁরাই তাঁর সোনার খনি। নিজের ফেসবুক লাইভ থেকে রবিবার আগামী একুশে জুলাইয়ের সমাবেশে সকাল 11 টা থেকে জমায়েতের ডাক দেন মমতা।  প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জানান, “শহীদদের স্মরণে একুশে জুলাই সকাল 11 টা থেকেই জমায়েত হবেন। আমরা বেলা তিনটে পর্যন্তই সমাবেশ চালাবো। সবাইকে অনুরোধ করব আসবেন।”

Leave a Comment