বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: এবার পুলিশকে বড় নির্দেশ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের (Samik Bhattacharya)। প্রকাশ্যে রাস্তায় দাঁড়িয়ে যদি কেউ ভারত বিরোধী স্লোগান দেয় তবে একেবারে পেটানোর নিদান দিলেন তিনি। বঙ্গ বিজেপির পুরনো দিনের সৈনিকের স্পষ্ট নির্দেশ, রাস্তায় দাঁড়িয়ে যদি কেউ ভারত ভাগ বা কাশ্মীরকে বিচ্ছিন্ন করার মতো স্লোগান দেয় তবে কাউকে রেয়াত করা হবে না। বললেন, “এদের এমন মার মারুন যাতে বাড়ি ফিরে যেতে না পারে!”এদিকে এমন বক্তব্যে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ।
ঠিক কী বলেছেন শমীক ভট্টাচার্য?
রবিবার, কারগিল বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে বিটি রোডে শহীদ জওয়ান কণাদ ভট্টাচার্যকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। আর সেখান থেকে গত শুক্রবার ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিং এর কাছে হওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের মিছিল এবং সেই মিছিলকে ঘিরে সংগঠিত অস্বস্তিকর পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মুখ খোলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।
শমীক বাবুর দাবি, “কিছুদিন আগেই আজাদী স্লোগান দিয়ে কিছু অপ্রাসঙ্গিক রাজনৈতিক শক্তি প্রাসঙ্গিক হওয়ার জন্য কলকাতার রাস্তায় নেমেছিল। তাতে পুলিশ আক্রান্ত হয়েছে, সাংবাদিক আক্রান্ত হয়েছে।”এদিন এমন বক্তব্যের পরই একেবারে সুর চড়িয়ে রাজ্য বিজেপির অন্যতম প্রধান মুখ বলেন, “কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদী, ভারত তেরে টুকরে হোঙ্গে” এসব কথা রাস্তায় বললে পুলিশ কিন্তু খুব মারবে। পুলিশকে বলব, এসব কথা যারা বলবে সরাসরি সোজা হয়ে বাড়ি যেতে যেন না পারে। কলকাতায় বলে থাকলে যেন PG, NRS এর ইমার্জেন্সি ঘুরে বাড়ি যেতে হয়।”
অবশ্যই পড়ুন: কবে খুলবে জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র সংক্রান্ত পোর্টাল? বড় খবর
এদিন, রাজ্য বিজেপির সভাপতি আরও বলেন, রাজ্যে নতুন করে র্যাডিকালাইজেশন বা চরমপন্থা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। কিছু কিছু মানুষ আছেন প্রকাশ্যে আক্রমণ করছেন। ভারত তেরি টুকরে হোঙ্গে বলতে না পারলেও আজাদী আজাদী বলে চিৎকার করছেন। 370 ধারা বাতিল করার বিরোধিতা করছেন অনেকেই। এসব কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে চলবে না।
এদিকে শমীক ভট্টাচার্যের এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কুণাল ঘোষের অবশ্য দাবি, “একজন দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে এই ধরনের কথা বলা যায় না। যাঁরা দেশবিরোধী তাঁদের শাস্তি দেওয়ার জন্য আইন রয়েছে। হাসপাতালে পাঠানো অ্যানার্কি। এর জন্য মারার নিদান দিতে পারি না আমরা। পুলিশ আছে কী করতে? কোর্টে যাবে।”