প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: আরজি কর কাণ্ডে (RG Kar Case) গ্রেফতার হতেই এবার জনতার ডিম থেরাপির শিকার হলেন পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ (Nirmal Ghosh)। এদিন থানা (Khardaha Police Station) থেকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে ডিম, জুতোর মালা ছোঁড়া হয় তাঁর দিকে,পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে কোনোরকমে গাড়িতে তোলে পুলিশ। এদিকে জেলে বসেও খাবার নিয়ে কোনো রকম আপস করতে চাননি বর্ষীয়ান এই নেতা। লকআপে বসেই ডিম টোস্ট, আদা চায়ের স্বাদ নিলেন নির্মল ঘোষ।
আদালতের পথে নির্মলকে ‘ডিম থেরাপি’
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, আজ, শুক্রবার, ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে ডিম ছোঁড়া হয় পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক নির্মল ঘোষকে। পুলিশ এই ডিমের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য আগেই হেলমেট পরিয়ে দিয়েছিল প্রবীণ নেতাকে। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হয়নি। থানার দরজা থেকে পুলিশের প্রিজন ভ্যান পর্যন্ত হেঁটে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া হল একের পর এক ডিম, শুধু তাই নয় এর সঙ্গে জুতোর মালাও ছোঁড়া হয়। খেতে হল চড়, লাথিও। একই সঙ্গে ‘চোর চোর’ স্লোগান ওঠে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকর্মীরা দ্রুত নির্মলকে ঘিরে গাড়িতে তুলে দেয়। চরম উত্তেজনা তৈরি হয় থানার চত্বরে।
VIDEO | Kolkata: Ex-TMC MLA Nirmal Ghosh, arrested in connection with the RG Kar ‘hurried cremation’ case, is heckled while being taken to court for production. pic.twitter.com/wNfmtdzkN5
— Press Trust of India (@PTI_News) August 14, 2026
খেলেন ডিম টোস্ট, বাটার টোস্ট
পুলিশ সূত্রে খবর, এদিন থানার লকআপে বসে খাবার নিয়ে নাকি নানা আবদার করেছিলেন নির্মল ঘোষ। ক্যান্টিনের এক কর্মীর থেকে আদা দেওয়া দুধ চা চান প্রাক্তন বিধায়ক। সেই মতো নাকি চা দেওয়া হয়। এছাড়াও তাঁকে ডিম টোস্ট, বাটার টোস্ট আর ঘুগনি দেওয়া হয়। আজ সকালে তাঁকে দেখতে লকআপে যান পুত্রবধূ দীপান্বিতা ঘোষ। দীর্ঘক্ষণ কথা হয় তাঁদের মধ্যে। তারপরই আদালতে তোলা হয় তৃণমূলে প্রাক্তন বিধায়ককে। জেলের ভিতর খাবার নিয়ে এত আবদার করার শুনে ক্ষুব্ধতা প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। এদিকে নির্মল ঘোষ গ্রেপ্তার হতেই খড়দহে উৎসবের মেজাজ যেন ছড়িয়ে পড়েছে। ডিজে বাজিয়ে অনেককে নাচতেও দেখা যায়। অনেকের দাবি এতদিনে অভয়া কাণ্ডে প্রকৃত অপরাধী গ্রেপ্তার হয়েছে।
আরও পড়ুন: ফের রাজ্যে চালু হবে ‘দুয়ারে রেশন’? বিধায়কদের মতামত চাইলেন খাদ্যমন্ত্রী
প্রসঙ্গত, নির্মল ঘোষ, সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এবং সোমনাথ দে-র বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন অভয়ার বাবা। এরপরেই ওড়িশা থেকে গ্রেপ্তার হন নির্মল ঘোষ। জানা গিয়েছে, ওড়িশার বালেশ্বরের সিমুলিয়া থানার একটি হোটেলে আত্মগোপন করেছিলেন তিনি। এমনকি পুরনো মোবাইল নম্বর সুইচড অফও করে দিয়েছিলেন। শেষে রাজ্য পুলিশ তাঁর মোবাইল টাওয়ার লোকেশনের সূত্র ধরে সিমুলিয়া পুলিশের সাহায্যে ওই হোটেলে যান এবং সেখানেই গ্রেপ্তার হন নির্মল ঘোষ। এদিকে রাতেই গ্রেপ্তার হন সিপিএম এর প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়।