অনন্যা সরকার, কলকাতা: বর্তমানে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা ও কেওয়াইসি (KYC) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা থেকে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণ ও বিভিন্ন আর্থিক পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে আধার কার্ড (Aadhaar Card) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কারণে বেশিরভাগ মানুষই তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার নম্বর লিঙ্ক করিয়েছেন। কিন্তু অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে যে, ব্যক্তিগত নম্বর লিঙ্ক করার মাধ্যমে কি আধার কর্তৃপক্ষ জানতে পারে যে গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে কত টাকা আছে, অথবা শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড বা বিমা পলিসিতে আধার কার্ডধারীর কী ধরনের বিনিয়োগ রয়েছে? এর সহজ উত্তর হল – না। তাহলে ইউআইডিএআই (UIDAI)-এর কাছে কী কী তথ্য থাকে, আসুন জেনে নেওয়া যাক।
আধার লিঙ্কের ক্ষেত্রে ইউআইডিএআই কোন ভূমিকা পালন করে?
ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (UIDAI)-এর মূল কাজ হলো পরিচয় যাচাই করা, কোনো ব্যক্তির আর্থিক লেনদেন পর্যবেক্ষণ করা নয়। আধার এনরোলমেন্ট বা তথ্য আপডেটের সময় যে তথ্যগুলো নেওয়া হয়, তার মধ্যে থাকে ব্যক্তির নাম, ছবি, জন্মতারিখ, লিঙ্গ এবং আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিস স্ক্যানের মতো বায়োমেট্রিক তথ্য। এছাড়া মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল ,অ্যাড্রেস দেওয়া যায়, তবে এটি অপশনাল।
ইউআইডিএআই-এর তথ্য অনুযায়ী, তাদের ডেটাবেসে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড, বিমা পলিসি, অ্যাকাউন্টে টাকার পরিমাণ বা অন্য কোনো আর্থিক তথ্য সংরক্ষিত থাকে না। কোনো ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান যখন গ্রাহকের পরিচয় যাচাইয়ের জন্য আধার ব্যবহার করে, তখন তারা কেবল একটি অথেন্টিকেশন রিকোয়েস্ট পাঠায়, যার উত্তরে ইউআইডিএআই কেবল ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ জানিয়ে থাকে।
আরও পড়ুন: ইঞ্জিন বিকল তাম্রলিপ্ত এক্সপ্রেসের, হেঁটেই দিঘা স্টেশনের উদ্দেশ্যে রওনা যাত্রীদের
যদিও, ই-কেওয়াইসি (e-KYC)-এর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান হয়তো গ্রাহকের নাম, ঠিকানা ও ছবির মতো কিছু নির্দিষ্ট তথ্য পেতে পারে, কিন্তু তারা অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স বা বিনিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য সম্পর্কে কিছু জানতে পারে না। কারও আধার নম্বর জানা থাকলেই তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের অ্যাক্সেস পাওয়া বা সেখান থেকে টাকা তোলা একেবারেই সম্ভব নয়। এর জন্য অতিরিক্ত অথেন্টিকেশন ও সিকিউরিটি প্রোটোকলের প্রয়োজন হয়।
আরও পড়ুন: শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে ১১৩ দিনের লড়াই, মাথা মুড়িয়ে আমরণ অনশনে কেরলের যোগ্য প্রার্থী
কিন্তু তাও ব্যাংক পিন, ওটিপি (One Time Password – OTP) বা অন্য কোনো গোপনীয় তথ্য কখনোই কারও সঙ্গে শেয়ার করা উচিত নয়। কোনো সন্দেহজনক লেনদেন নজরে এলে দ্রুত ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়। অর্থাৎ এক কথায় বলা যায়, আধার মূলত পরিচয় যাচাইয়ের একটি মাধ্যম – এটি আধার কার্ডধারীর ব্যাংক ব্যালেন্স বা ব্যক্তিগত বিনিয়োগ সম্পর্কে জানতে পারে না।