সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দিল্লির (Delhi) যন্তরমন্তরে ছাত্র আন্দোলন নিয়ে ধুন্ধুমার গোটা দেশ। ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জ এবং বিক্ষোভের ঘটনা নিয়ে মামলা করা হয় সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)। তবে সেই মামলায় কোনও রকম অন্তর্বর্তী হস্তক্ষেপই করলেন না প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। এমনকি পুলিশের বিরুদ্ধে লাঠিচার্জের ঘটনার ভিডিও দেখাতে গেলে বিচারপতির সাফ মন্তব্য, “আমাদের ভিডিও দেখার কোনও সময় নেই।” মামলাকারীর আইনজীবী দিল্লি পুলিশের হাতে শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ তুলে জরুরী শুনানির আবেদন জানালেও তা খারিজ করে দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
সুপ্রিম কোর্টে খারিজ সিজেপির মামলা
মঙ্গলবার বিষয়টি আদালতে উত্থাপন করে আইনজীবী দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়ে দাবি করেন যে, নিট ২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং এনটিএ সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের উপর দিল্লি পুলিশ নৃশংসভাবে হামলা চালিয়েছে। শীর্ষ আদালতের অবিলম্বে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা প্রয়োজন। কিন্তু বিচারপতি সূর্যকান্ত স্পষ্ট জানান, “আমাদের সময় এবং আপনাদের সময় নষ্ট করবেন না।” এমনকি ঘটনার ভিডিও দেখানোর চেষ্টা করলে বিচারপতি জানান, “আমরা কোনও ভিডিও দেখতেও চাই না।”
না উল্লেখ করলেই নয়, ২০ জুলাই অর্থাৎ সোমবার ককরোচ জনতা পার্টির ডাকে হাজার হাজার মানুষ দিল্লির রাজপথে নামে সংসদ অভিযান এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে। তবে হামলার চেষ্টা করা হলেই আন্দোলনকারীদের উপর চড়াও হয় পুলিশ এবং লাঠিচার্জের ঘটনাও ঘটে। এতে অনেক বিক্ষোভকারী আহত হন, এবং পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন বলে খবর। আইনজীবীর অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ জনসমাবেশে দিল্লি পুলিশ মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করেছে, এবং আদালতের নির্দেশ মান্যতা দেয়নি। সেই কারণে বিচারপতিদের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের আবেদন জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: মোদীর আশ্বাস মেলায় দিল্লি অভিযান প্রত্যাহার কৃষকদের, মানা হবে তাঁদের দাবি?
কিন্তু বিচারপতি সেই মামলায় কোনওরকম অন্তর্বর্তী হস্তক্ষেপই করলেন না প্রধান বিচারপতি। পাশাপাশি মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্টও একইভাবে আবেদন খারিজ করে জানিয়ে দিয়েছিল যে “আদালতকে এই বিতর্কের মধ্যে টেনে আনবেন না।” যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে আশ্বাস মিলেছে, সিজেপির দাবিগুলি পর্যালোচনা করা হবে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে ফের ধাক্কা খাওয়ার পর এই আন্দোলন কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা নিয়ে থেকে যাচ্ছে বড়সড় প্রশ্ন।