সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন রেল কর্মীরা। বিশেষ করে লোকো পাইলটরা (Loco Pilot)। তাঁদের অভিযোগ, অমানুষিক খাটনি খাটছেন তাঁরা। ডিউটি আওয়ারের কোনও সময় নেই। এহেন ঘটনার প্রতিবাদেই এবার থাকতে না পেরে বিরাট কাণ্ড ঘটালেন এক লোকো পাইলট। গত বুধবারের ঘটনা। বিহারের ঠাকুরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে রেলের নিয়ম লঙ্ঘন এবং যাত্রীদের অসহায়ত্বের এক অনন্য ঘটনা সামনে এসেছে।
৯ ঘন্টা ডিউটির পর আর ট্রেন চালাতে অস্বীকার চালকের
মালদা থেকে শিলিগুড়িগামী ট্রেন নম্বর ৭৫৭১৯ ডেমু ট্রেন দুপুর ২:৫২ মিনিটে শুরু হয়ে প্রায় তিন ঘন্টা ধরে ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে ছিল। কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি বা দুর্ঘটনা নয়, বরং ট্রেনের লোকো পাইলট তার দায়িত্ব শেষ করার পরেও কাজ করতে অস্বীকার জানান। তিনি ক্লান্ত, কাজ করতে পারবেন না বলে জানান। এহেন ঘটনাকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র।
আরও পড়ুনঃ নিচে মেট্রো, মাঝখানে ট্রেন, উপরে ছুটবে বুলেট ট্রেন! ভারতে তৈরি হচ্ছে ১৬ তলার স্টেশন
ট্রেনটি নির্ধারিত সময়সূচী অনুসারে মালদা ছেড়ে যায়, কিন্তু ঠাকুরগঞ্জে পৌঁছানোর পর, ড্রাইভার স্টেশন মাস্টারকে জানায় যে তার নয় ঘন্টার ডিউটি শেষ হয়েছে। রেলওয়ে নিরাপত্তা বিধিমালার উল্লেখ করে লোকো পাইলট বলেন যে নির্ধারিত সময়ের বেশি ট্রেন চালানো হলে অপারেশনাল নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এদিকে স্টেশন মাস্টার ও অন্যান্য রেল আধিকারিকরা বারবার তাঁকে ট্রেনটি গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করলেও তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। সাফ জানিয়ে দেন, ‘আমি ক্লান্ত, আর কিছুতেই যাবো না।’
রেলের নিয়ম কী?
এমনিতে রেলের নিয়ম অনুযায়ী, অপারেশনাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য, লোকো পাইলটদের সর্বোচ্চ ৯ থেকে ১০ ঘন্টা একটানা ডিউটির পর বিশ্রাম নেওয়ার বাধ্যতামূলক অধিকার রয়েছে, যাতে ক্লান্তির কারণে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো যায়। সেই নিয়ম উল্লেখ করেই ওই লোকো পাইলট আর ট্রেন এগিয়ে নিয়ে যেতে অস্বীকৃতি জানান। এদিকে দুপুর ২:৫২ থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ট্রেনটি আটকে থাকায় যাত্রীদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়। ট্রেনটি ব্যবসায়ী, দিনমজুর এবং ছোট বাচ্চাদের পরিবার নিয়ে শিলিগুড়ি এবং কিষাণগঞ্জ যাচ্ছিল। ঘন্টার পর ঘন্টা স্টেশনে আটকে থাকার জন্য যাত্রীরা রেল প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন।