বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: উন্নত চিকিৎসা এবং কম খরচের কারণে প্রতিবছরই ভারতে চিকিৎসার (Indian Healthcare) জন্য আসেন বিদেশীরা। হিসেব করে দেখলে, বিশ্বের একাধিক দেশের তুলনায় এ দেশে চিকিৎসার খরচ অনেকটাই কম। আর ঠিক সেই কারণেই দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় দিন দিন বাড়ছে বিদেশি রোগীর সংখ্যা। তেমনই এক মার্কিন মহিলা নাগরিক বেঙ্গালুরুতে চোখের অপারেশনের জন্য এসেছিলেন। অস্ত্রোপচারের পর নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে ভারতের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি। ঠিক কী জানালেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশের (America) নাগরিক?
ভারতের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে অকপট বিদেশি মহিলা
বেঙ্গালুরুর এক হাসপাতালে চোখের অপারেশন করানোর পর সুস্থ হয়ে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করেন ওই মার্কিন মহিলা। ভারতীয় চিকিৎসা পরিষেবার সাথে যুক্ত হওয়ার পর নিজের অভিজ্ঞতা নেট নাগরিকদের সাথে ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। ওই বিদেশিনীর দাবি, আমেরিকায় নির্দিষ্ট বীমা ছাড়া চিকিৎসা করানো অত্যন্ত কঠিন। তবে ভারতে তাঁর চিকিৎসা সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা দারুণ।
মার্কিন নাগরিক স্টোনফিশ জানান, এক বন্ধুর পরামর্শ নিয়েই ভারতে চোখের অপারেশন করাতে এসেছিলেন তিনি। সেই বন্ধু অবশ্য এর আগে ভারতে নিজের চোখের অপারেশন করিয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তাঁকে পরামর্শ দেন তিনি। এরপর বেঙ্গালুরুর ওই হাসপাতালে বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা করান স্টোনফিশ। আর চোখ পরীক্ষা করানোর এক সপ্তাহের মধ্যে অপারেশনের ডেট ঠিক করে দেন চিকিৎসকরা।
ওই মহিলার কথায়, “সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রথমে আমি চোখ পরীক্ষা করেছিলাম। এরপর এক সপ্তাহের মধ্যে আমার অপারেশনের ডেট ঠিক হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সফলভাবে অস্ত্রোপচার হয়েছে। আমি খুব ভাল পরিষেবা পেয়েছি। ডাক্তাররাও আমার খুব যত্ন নিয়েছেন। এমনকি অপারেশনের পর একমাস ধরে নিয়মিত যে চেকআপ থাকে তার খরচও ওই অপারেশনের খরচের মধ্যেই ধরে নেওয়া হয়েছিল। এর জন্য আমাকে অতিরিক্ত একটা টাকাও দিতে হয়নি। আমি সত্যিই খুব খুশি।”
View this post on Instagram
আরও পড়ুন: বাবাকে হারিয়ে কুস্তি ছাড়ার সিদ্ধান্ত, সেই মনীষাই আজ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, আবেগে ভাসল দেশ
ওই এক ভিডিও বার্তায় আমেরিকার নাগরিক স্টোনফিশ একেবারে স্পষ্ট করে বলেন, “ভারতের চিকিৎসা পরিষেবা আমেরিকার তুলনায় অনেক ভাল।” ওই বিদেশিনী এও জানান, তাঁর দৃষ্টিশক্তি অত্যন্ত দুর্বল ছিল। তিনিও ভেবেছিলেন চোখের যা অবস্থা তাতে অস্ত্রোপচার করা অসম্ভব। মহিলার বক্তব্য, “আমি সত্যিই ভেবেছিলাম আমার চোখের যা অবস্থা তাতে অস্ত্রোপচার অসম্ভব। আমি ঘুমানোর সময়ও কন্টাক্ট লেন্স পরে থাকতাম। কারণ আমি লেন্স ছাড়া কিছুই দেখতে পেতাম না।”
ভাইরাল ভিডিওটিতেই ওই মার্কিন তরুণী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁর ভারতে এসে অস্ত্রোপচার করানোর কোনও পরিকল্পনা ছিল না। এমনকি তাঁর কাছে কোনও মেডিকেল ভিসাও ছিল না। সবটা হয়েছে হঠাৎ করেই। সব মিলিয়ে বলাই যায়, খোদ আমেরিকার নাগরিকের চোখে ট্রাম্পের দেশের তুলনায় ভারতের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অনেকটাই উন্নত এবং সহজলভ্য।