‘আর থাকব না কংগ্রেসের সাথে’ জোট না করায় সিদ্ধান্ত কালীঘাট তৃণমূলের, জানালেন কল্যাণ

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: জল্পনা ছড়িয়েছিল, সর্বস্ব হারানোর পর আবারও পুরনো দল অর্থাৎ কংগ্রেসে ফিরতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি দিল্লিতে রাহুল গান্ধী, সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকেও বসতে দেখা গিয়েছিল তৃণমূল সুপ্রিমোকে। পাশাপাশি আগামী ৬ অক্টোবর রেজিনগর এবং নন্দীগ্রাম এই দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচনে কংগ্রেসের হাত ধরতে চেয়েছিল তৃণমূল। যদিও সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে হাত শিবির। তার পরপরই বড় কথা শোনালেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)।

ভবিষ্যতে কংগ্রেসের সঙ্গে লড়বে তৃণমূল?

শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “দিদি বার্তা পাঠিয়েছিল। আমিও কেসি বেনুগোপালকে বলেছিলাম, তোমরা নন্দীগ্রাম নাও আর আমরা রেজিনগর নিই। লড়াইটা শক্ত। আমরা একটা নিই, তোমরা একটা নাও। তবে বেনুগোপাল জানিয়েছিল, আমাকে পরে জানাবে। আমাকে আর জানায়নি। না জানিয়েই ওরা প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে। পরে শুনলাম, ডেরেককে বলেছে স্থানীয়রা চাইছে এটা। তাহলে স্থানীয়দের কথায় কংগ্রেস চললে চলবে।”

আসলে সোমবার খবর মিলেছিল, নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরের উপনির্বাচনে কালীঘাট তৃণমূলের তরফ থেকে দিল্লির কংগ্রেস শিবিরে ফোন গিয়েছিল। ওইদিন কেসি বেনুগোপালকে ফোন করা হয়েছিল বলে জানান তৃণমূল সাংসদ। কিন্তু মমতার সঙ্গে হাত মেলাতে চায়নি হাত শিবির। সেই সূত্রে কল্যাণ বলেন, “ভবিষ্যতে আর থাকব না কংগ্রেসের সঙ্গে। স্থানীয়রা যদি সবকিছু ঠিক করে, তাহলে সংসদে ওদের সঙ্গে থাকতে হবে বলে থাকব, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই।”

আরও পড়ুন: নেই কোনও সিকিউরিটি, নির্দ্ধিধায় মেলায় পুতুল বিক্রি করছেন সাঁইথিয়ার বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহা

যদিও এ বিষয়ে কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য জানান, দিন পনেরো আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসের এক শীর্ষ নেতার কাছে ফোন করেন। সেই সময় উপনির্বাচনে জোট গঠনের পরিকল্পনা করছিল কালীঘাট তৃণমূল। এমনকি এই উপনির্বাচনে কংগ্রেসকে নন্দীগ্রাম আসন ছাড়তে চেয়েছিলেন মমতা এবং কালীঘাট তৃণমূল রেজিনগর আসনে লড়বেন বলেই জানিয়েছিলেন দলনেত্রী। তবে প্রস্তাব পেয়ে হাই কম্যান্ড দুই-তিন দিন সময় চান। এরপর কর্মীদের তরফ থেকে মতামত নেওয়ার পরপরই প্রদেশ কংগ্রেস জানিয়েছে, এটা জোট বাঁধার সঠিক সময় নয়। উপযুক্ত হলে ভেবে দেখা হবে।

Leave a Comment