সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিমের আকাশে যুদ্ধের কালো মেঘ দিনের পর দিন ঘন হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং ইজরায়েলের সংঘাত তুঙ্গে। হ্যাঁ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত যখন নতুন মাত্রা নিচ্ছে, তখনই সেই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের (Pakistan) সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন রকম প্রশ্ন। সম্প্রতি ইসলামাবাদের মন্তব্যে ইঙ্গিত মিলছে যে, সৌদি আরব আক্রান্ত হলে তারা চুপ করে বসে থাকবে না। বরং, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবে।
ইশাক দারের মন্তব্য ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে
সম্প্রতি পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রী ইশাক দার প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের আলাদা সামরিক চুক্তি রয়েছে এবং সেই চুক্তির বাধ্যবাধকতা তারা মানবে। এমনকি তিনি স্পষ্ট বলেন, ইরানকে ইতিমধ্যেই সতর্ক করা হয়েছে, যাতে সৌদি ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো না হয়। এই মন্তব্য নিয়েই নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তাহলে কি পাকিস্তানি এবার সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামছে?
Now we know Why’s Pakistan ranked above Bharat in ‘Happiness Index’. Living in ‘Fool’s Paradise’ helps😂
Ishaq Dar claims that he reminded Iran of Pakistan’s defence pact with Saudi Arabia. AFTER THAT Iran’s attacks on Saudi Arabia & Oman reduced.
Iran Pakistan se darr gaya😂 pic.twitter.com/dldYs2EOP9
— BhikuMhatre (@MumbaichaDon) March 3, 2026
এদিকে ইসলামাবাদ এবং রিয়াধের সম্পর্কে বহু পুরনো। আর সাম্প্রতিক বছরগুলিতে তা তারও মজবুত হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত বিশেষ চুক্তি অনুযায়ী, যে কোনও এক দেশের উপর হামলা হলে অন্য দেশের উপরেও হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে। জানা গিয়েছে, পাকিস্তান ইতিমধ্যেই সৌদি আরবে সামরিক সহায়তা জোরদার করেছে। এমনকি অত্যাধুনিক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি রিয়াধের হাতেও তুলে দেওয়া হয়েছে। আর পাকিস্তান বায়ুসেনার LY-80, FM-90 সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এমনকি প্রাক্তন পাক সেনাপ্রধান রাহেল শরীফ ৪৩টি দেশ নিয়ে গঠিত ইসলামিক মিলিটারি কাউন্টার টেরোরিজমেশনের দায়িত্ব রয়েছেন। যার ফলে সৌদি-পাক সামরিক সমন্বয় আরও সুসংগত হবে।
অন্যদিকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে নামার অভিযোগ উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের বিরুদ্ধে। এই দুই দেশ মিলেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে নিকেশ করেছে বলে খবর। পাল্টা বদলা হিসাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলিকেও নিশানা করেছে তেহরান। আর এই সংঘাতের জেরে গোটা পশ্চিম এশিয়া এখন অস্থির হয়ে উঠেছে। কার্যত যুদ্ধের আগুনে জ্বলছে মধ্যপ্রাচ্য। আর সৌদি আরবেও বেছে বেছে হামলার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি। পাকিস্তানের তরফ থেকে বলা হয়েছে, সৌদির সঙ্গে তাদের সামরিক চুক্তি থাকায় সেখানে বড়সড় আক্রমণ করা হয়নি।
আরও পড়ুন: এক ডলার ৯২ টাকারও বেশি! মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে রেকর্ড পতন ভারতীয় মুদ্রায়
আবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ সম্প্রতি সৌদির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সলমনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। আর সৌদিকে সমস্ত রকম ভাবে সহায়তা করবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি। তাঁর এই যোগাযোগকে অনেকে সম্ভাব্য যৌথ সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত হিসেবেও দেখছে। আর এই পরিস্থিতিতে ভারতের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। কারণ, দিল্লির সঙ্গে রিয়াধের সম্পর্ক বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। তাই বর্তমান সংঘাতে ভারত এখনো পর্যন্ত স্পষ্ট কোনও পক্ষ নেয়নি। শান্তির পক্ষে বার্তা দিলেও সরাসরি কোনও দেশকে নিন্দা কিংবা সমর্থন করছে না নয়াদিল্লি।