সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ এখন তৃণমূলের (Trinamool Congress) প্রতীক হারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। বাংলায় উপনির্বাচনের আবহে তৃণমূলের প্রতীক ফ্রিজ করেছে নির্বাচন কমিশন। ইসিআই এর সিদ্ধান্তে এবার কালীঘাট তৃণমূল পেয়েছে ফুটবলার প্রতীক। অন্যদিকে ঋতব্রত তৃণমূল শিবিরের প্রতীক হবে খাম। যাইহোক, এখন এই প্রতীক হাতছাড়া হওয়া নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর দলকে কটাক্ষ করলেন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ।
প্রতীক হারানো নিয়ে তৃণমূলকে কটাক্ষ ভাস্কর ঘোষের
ভাস্কর ঘোষ নিজের ফেসবুক পোস্টে কটাক্ষ করে লিখেজেন, ‘একেই বলে ঢাক সহ ঢাকি বিদায়। @প্রতীক হারানো।’ এই নিয়ে অবশ্য অনেকে নিজের মত ব্যক্ত করেছেন। একজন লিখেছেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল, প্রতীক তাদের আবেগ। দলত্যাগ বিরোধী আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, মানুষের ভোটাধিকারকে কষিয়ে এক চড় মেরে, সংবিধানকে তামাশা বানিয়ে, স্পিকার কে নির্লজ্জ প্রমাণ করে, কিছু বেইমান দল ছেড়ে চলে গেল। এখন প্রশ্ন হচ্ছে আদি সেই রাজনৈতিক দলের প্রতীক কেড়ে নেওয়াটা কতটা সংবিধানসম্মত বা নৈতিক ? প্রশ্ন থেকে যায়, অনেক প্রশ্নের মাঝে এই প্রশ্ন বহুদিন থেকে যাবে। রাজনৈতিক স্বার্থে যারা তামাশা করছে তাদের হিসেব কিন্তু তোলা থাকছে।’
আরেকজন লিখেছেন, ‘অতি চালাকি করলে জনগণ তার যোগ্য জবাব দিতেও জানে।’ অপর একজন গুরুতর অভিযোগ করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘এই তৃণমূল দলটাই আমার জীবন টাই তছনছ করে দিয়েছে। 2000 সালে মাধ্যমিক পাস করার পর বাঁকুড়া খ্রিস্টান কলেজে উচ্চমাধ্যমিক ভর্তি হলাম। পারিবারিক ধারা মেনে এসএফআই করতাম তখন। তারপর hs পাস করার পর ইংরেজি অনার্স নিয়ে নিলাম ওই কলেজে। আগে মাসি বাড়িতে থেকে hs টা পড়েছিলাম। এবার ওই কলেজের ব্রাউন হোস্টেলে ভর্তি নিলাম। একবছর ভালোই কাটল। ব্রাউন হোস্টেল ছিল tmcp ছাত্রদের আখড়া। ওই হোস্টেলের আমরা মাত্র গুটিকয়েক ছাত্র এসএফআই করতাম। দীর্ঘ 7 বছর ক্ষমতায় থাকার পর এসএফআই 2004 সালে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে হেরে গেল। এরপর ওদের রাগ আমার উপরে পড়ে গেল। আমাকে মেরে ধরে আমার হোস্টেলের রুম ভাঙচুর করে, বইপত্র, নথিপত্র নষ্ট করে দিল তৃণমূলের গুন্ডারা। সেই সময় বামেরা ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও আমাকে সাহায্য করে নি। ওই সমবেদনা জানিয়েছিলেন। ফলে আমার পড়াশুনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে আমি ptti ট্রেনিং সুযোগ পাই। এরপর নেতাজি ওপেন থেকে আমি বাংলায় অনার্স করে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই। আমার বন্ধুরা যারা আমার সাথে পড়ছিল তাদের আগেই গ্র্যাজুয়েশন সম্পূর্ণ হয়ে যায়। তারা এসএসসি বা অন্য কোন পরীক্ষায় পাস করে জব পেয়ে যায়। এরপর 2010 সালে আমি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চাকরি পাই। 2011 সালে তৃণমূল ক্ষমতায় আসে। ক্ষমতায় এসে আমার পরিবারের নানা ধরনের অত্যাচার নামিয়ে নিয়ে আসে। 2014 সালে আপার প্রাইমারি পরীক্ষায় ভালোভাবে পাস করি। কিন্তু তৃণমূলের দুর্নীতির কারণে এটার নিয়োগ ঝুলে যায়। 2024 সালে যখন এর নিয়োগ হয় তখন আমি আর আপার যাই নি। কারণ আমি তখন প্রাথমিকে উঁচু স্কেল পাচ্ছি এই সবচেয়ে বড় কথা যদি কোন কারণে আপার বাতিল হয়ে যায় তাহলে একুল ওকুল দুই এ যাবে। ফলে আমার আর হাইস্কুলে শিক্ষকতার সুযোগ হলো না। এটার আপশোষ আমার সারাজীবন থেকে যাবে। আজকে আমার খুশি লাগছে যে এই তৃণমূল দলটার অস্তিত্ব আর নেই।একটা জেহাদি, দুর্নীতিগ্রস্ত দলের পরিসমাপ্তি ঘটলো।’
আরও পড়ুনঃ দিল্লির আদলে এবার এই রাজ্যেও ছুটবে র্যাপিড রেল? যা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী
নতুন প্রতীক ও নাম পেল মমতা ও ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়ের দল
এদিকে নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়ের দলগুলির নতুন নাম ঘোষণা করেছে। মমতার দলের নাম রাখা হয়েছে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’, অন্যদিকে বিদ্রোহী ঋতব্রতর দলের নাম রাখা হয়েছে ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’। নির্বাচন কমিশন উভয় দলকে আলাদা নির্বাচনী প্রতীকও বরাদ্দ করেছে। মমতার দল হবে ‘ফুটবল খেলোয়াড়’, এবং ঋতব্রতার দল হবে ‘খাম’। টিএমসি-র নাম ও প্রতীক বরাদ্দের বিষয়ে ঋতব্রত বলেন, “আমরা সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিই এবং আমরা তিনটি নাম জমা দিয়েছিলাম। আমরা ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নামটি এবং ‘খাম’ নির্বাচনী প্রতীকটি পেয়েছি।”