অনন্যা সরকার, উত্তরপ্রদেশ: শারীরিক প্রতিবন্ধকতা (Disabled Student) থাকা সত্ত্বেও সাত বছরের একটি শিশুর শিক্ষাগ্রহণের প্রতি অদম্য আগ্রহ এক অনুপ্রেরণাদায়ক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এই গল্প উত্তরপ্রদেশের বালিয়া জেলার মানিয়ার ব্লকের দিঘেরা গ্রামসভার অন্তর্গত রানিপুর গ্রামের বাসিন্দা রাগিনীর। সে দিঘেরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। গুরুতর শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও সে কখনও স্কুল কামাই করেনি, তবে গ্রামের রাস্তার বেহাল দশা ও পরিবারের আর্থিক অনটনের কারণে রাগিণীর প্রতিদিন স্কুলে যাতায়াত করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে। বাধ্য ছোট্ট মেয়েটি একটি ভিডিও বার্তায় বালিয়ার জেলাশাসকের (District Magistrate) কাছে সাহায্যের আবেদন করে।
রাগিণীর আর্তি শুনে জেলা প্রশাসনের সরাসরি পদক্ষেপ
সাত বছরের শিশুটির পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে বালিয়ার জেলাশাসক (DM) মঙ্গলা প্রসাদ সিং (IAS) সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে রাগিণীর বাড়িতে পৌঁছে যান। তিনি শিশুটির সঙ্গে কথা বলেন এবং তার স্কুলে যাতায়াতের অভিজ্ঞতা, পড়াশোনা এবং দৈনন্দিন প্রয়োজন সম্পর্কে তার মা ববিতা দেবী ও দাদুর কাছ থেকে খোঁজখবর নেন।
স্কুলে যাতায়াতের সমস্যা দূর করতে রাগিনীকে প্রশাসনের তরফে তিন চাকার সাইকেল দেওয়া হয়। এর সাথেই তাকে স্কুল ব্যাগ, বই, খেলনা এবং বিভিন্ন পড়াশোনার সামগ্রীও দেন বালিয়ার ডিএম। রাগিণীর পায়ের চিকিৎসার জন্য দ্রুত ও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকার তার চিকিৎসার সমস্ত ব্যয় বহন করবে বলেও ঘোষণা করেছে।
আরও পড়ুন: সুপার কপ! দুর্গাপুর বৃদ্ধার ব্যাগ ছিনতাইকারীকে ফিল্মি স্টাইলে ৫ মিনিটে ধরল পুলিশ
বালিয়ার জেলাশাসক পরিবারটির জন্য একটি শৌচাগার নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং গ্রামের ভাঙাচোরা রাস্তাগুলো অবিলম্বে মেরামতেরও নির্দেশ দিয়েছেন। এর পাশাপাশি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষমতায়নের দায়িত্বে থাকা আধিকারিককে গ্রামে একটি বিশেষ শিবির আয়োজন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে ওই অঞ্চলের অন্যান্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা যায়।
আরও পড়ুন: স্বামীর অত্যাচারে অকেজো দুই হাত! ছেলেকে মানুষ করতে পথে নামলেন অসহায় মা
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ব্যাচের আইএএস আধিকারিক মঙ্গলা প্রসাদ সিং এর আগে হারদোই ও গাজিপুরের জেলাশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ৭ বছর বয়সী রাগিনীর এই অদম্য সাহস এবং প্রশাসনের এই সহানুভূতিশীল উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, সরকারি সাহায্য যখন মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছায়, তখন তা কেবল একটি সাইকেল পৌঁছে দেওয়ার ঘটনা হয়েই থেকে যায় না, তা একটি শিশুর স্বপ্ন ও আত্মবিশ্বাসকে পুনরুজ্জীবিত করে তুলতে পারে।