অনন্যা সরকার, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সরকারি দফতরে কর্মরত অনেক চুক্তিভিত্তিক গ্রুপ-ডি কর্মীর (Contractual Group D Staff) কোনো নির্দিষ্ট পদ বা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত কোনও দায়িত্ব নেই। তাই এবার, সংশ্লিষ্ট দফতর তাদের দক্ষতা যাচাই ও তার কার্যকর ব্যবহারের জন্য একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে যে, এই কর্মীদেরকে কম যোগ্যতাসম্পন্ন হিসেবে দেখার কোনো কারণ নেই, এদের অনেকেই দক্ষ ও কর্মোদ্যোগী এবং গ্রুপ-সি পদে কাজের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা রাখেন। তাই এই কর্মীরা পদোন্নতিরও যোগ্য। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল প্রশাসনিক দক্ষতা ও পরিষেবার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মীদের পেশাগত বিকাশ ও ভবিষ্যত সম্ভাবনাকে উন্নত করা।
চুক্তিভিত্তিক গ্রুপ-ডি কর্মীদের পরীক্ষার ব্যবস্থা
নবান্নের হিসেব অনুযায়ী, রাজ্যের বিভিন্ন দফতরে প্রায় ৩,২০০ জন চুক্তিভিত্তিক গ্রুপ-ডি কর্মী কাজ করছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মী সেচ ও জলপথ দপ্তরে (Irrigation and Waterways Department) নিযুক্ত আছে। ব্যক্তিগত অনুরোধের ভিত্তিতে অনেককেই তাদের বাড়ির কাছাকাছি কার্যালয়ে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কলকাতা ও কিছু জেলা সদরের দপ্তরগুলিতে অতিরিক্ত কর্মী থাকায় সমস্যা তৈরি হয়েছে, যা তাদের কর্মক্ষমতা ও দক্ষতার পূর্ণ ব্যবহারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, অন্তত মাধ্যমিক বা সমতুল্য শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পন্ন কর্মীরা একটি স্ক্রিনিং টেস্টে অংশগ্রহণের যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। লিখিত পরীক্ষার জন্য ৭৫ শতাংশ এবং মৌখিক পরীক্ষার জন্য বাকি ২৫ শতাংশ গুরুত্ব বা ‘ওয়েটেজ’ রাখা হতে পারে। উল্লেখ্য, মৌখিক পরীক্ষাটি সংশ্লিষ্ট বিভাগের বাইরের কোনো স্বাধীন কর্তৃপক্ষ দ্বারা পরিচালিত হবে। চূড়ান্ত মেধা তালিকা ও গ্রুপ-সি পদের শূন্যপদের ভিত্তিতে সফল প্রার্থীদের পদোন্নতিও হতে পারে।
আরও পড়ুন: ভারতের আন্দোলনকে সমর্থন করে বাংলাদেশে মশাল মিছিল, প্রধানমন্ত্রী মোদিকে গালিগালাজ!
বর্তমানে ‘কম্পিউটার অপারেটর’, ‘ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট’ এবং ‘লোয়ার ডিভিশন ক্লার্ক’ -এর মতো পদের জন্য কর্মী-সংকট দেখা দিয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী রাজ্যের যেকোনো দপ্তরে এই চুক্তিভিত্তিক গ্রুপ-ডি কর্মীদের এমন পদে নিয়োগ করা হতে পারে। তবে যেসব কর্মী মেধা তালিকায় স্থান পাবেন না, তাদের পিওন, রেকর্ড কিপার, পাম্প অপারেটর বা বরকন্দাজের মতো অপেক্ষাকৃত উচ্চতর পদের জন্য বিবেচনা করা হতে পারে। এছাড়া বিকল্প হিসেবে, তাদের চৌকিদার, নাইট গার্ড বা খালাসির মতো কাজেও নিযুক্ত করা যেতে পারে, যার জন্য বিশেষ দক্ষতার খুব একটা প্রয়োজন হয় না। সেক্ষেত্রে, বেতন বৃদ্ধিও হতে পারে। চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বাড়ির কাছাকাছি বা যাতায়াতের ক্ষেত্রে সুবিধা হবে এমন দূরত্বের কোনো কার্যালয়ে পোস্টিং দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হবে। প্রশাসনের তরফে আশা করা হচ্ছে যে, এই পদক্ষেপ কর্মীদের দক্ষতা ও কাজের প্রতি আগ্রহ উভয়ই বৃদ্ধি করবে।