প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: পরিবর্তনের বাংলায় ফের বড় সিদ্ধান্ত বিজেপি সরকারের, দিঘা (Digha) গেটের ওপর থেকে এবার সরানো হবে ‘বিশ্ব বাংলা’ লোগো (Biswa Bangla Logo)। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে শুরু হয়ে গিয়েছে সেই কাজ। এদিকে কাজ যাতে নির্বিঘ্নে হয় তার জন্য আজ অর্থাৎ ১৪ সেপ্টেম্বর ও আগামীকাল, ১৫ সেপ্টেম্বর ১১৬ নম্বর জাতীয় সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। গতকাল, রবিবার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এমনই নির্দেশ দিল দিঘা শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদ (Digha Shankarpur Development Authority)।
খোলা হবে দিঘা গেটের ‘বিশ্ব বাংলা’ লোগো
রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পরেই শুভেন্দু অধিকারীর সরকার পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেসের সরকারের ‘বিশ্ব বাংলা’ লোগোটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। আর সেই কারণে বিগত কয়েক মাসে কলকাতা সহ রাজ্যের নানা প্রান্ত এবং দিঘার সমুদ্র উপকূলবর্তী ঘাটগুলি থেকে ‘বিশ্ব বাংলা’ লোগো সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আর এবার পালা দিঘার প্রধান প্রবেশদ্বারের। জানা গিয়েছে, গতকাল, রবিবার, বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করে দিঘা শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের তরফে জানানো হয়েছে যে আজ ও আগামিকাল রাত ১২টা থেকে ভোর ৩টে পর্যন্ত এই জাতীয় সড়কে যান চলাচল বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। মাইকিংও করা হয়েছে।
বিকল্প পথের ব্যবস্থা প্রশাসনের
মূলত সেখানকার পর্যটক ও সাধারণ যাত্রীদের যাতে কোনওরকম ভোগান্তি পোহাতে না হয়, সেই কারণে দিনের ব্যস্ত সময় এড়িয়ে গভীর রাতে কাজ চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে যানজট ও অহেতুক সমস্যা এড়াতে বিকল্প পথের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে দিঘা শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের সিইও ধুমালপ্রতীক অশোক বলেন, “যাত্রী সাধারণের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখেই কাজ চলাকালীন ওই রুটের গাড়িগুলিকে দিঘা গেটের ঠিক সামনে অবস্থিত পেট্রল পাম্পের পাশ দিয়ে ঘুরিয়ে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছনোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।”
আরও পড়ুন: চাকরি হারানো শিক্ষিকাকেই নন্দীগ্রামে প্রার্থী করলেন মমতা, কে এই সঞ্চিতা প্রধান দে?
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সৌন্দর্যায়নের কারণে এই গেট নির্মাণ করা হয়েছিল। গেটের মাথায় লাগানো হয়েছিল ‘বিশ্ব বাংলা’ লোগো। এবার সেটিও সরানো হচ্ছে। এর আগে সল্টলেক স্টেডিয়াম থেকেও সরানো হয়েছিল বিশ্ববাংলার লোগো। যদিও বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসতেই আগেই স্পষ্ট জানিয়ছিল যে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘লোগো’ হিসেবে আর ব্যবহার করা যাবে না, ‘বিশ্ববাংলা লোগো’। তার বদলে, সরকারি লোগো হিসেবে ব্যবহার করা হবে অশোকস্তম্ভ। এবার সেই কাজই মনোনিবেশ করেছে প্রশাসন।