এবার সিভিক ভলেন্টিয়ারদের যোগ্যতার পরীক্ষা, অকৃতকার্যদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেবে সরকার নেবে

অনন্যা সরকার, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের পূর্বতন সরকারের আমলে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশকে সাহায্য করার উদ্দেশ্যে সিভিক ভলেন্টিয়ারদের (Civic Volunteer) নিয়োগ করা হয়েছিল। বর্তমানে লক্ষাধিক সিভিক ভলেন্টিয়ার এ রাজ্যে কর্মরত রয়েছে। তবে নবনির্বাচিত বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি জানিয়েছিলেন, এই সিভিক ভলেন্টিয়ারদের ঝাড়াই-বাছাই করা হবে। এবার সেই উদ্দেশ্যেই জেলায় জেলায় সিভিক ভলেন্টিয়ারদের শারীরিক ও শিক্ষাগত পরীক্ষার আয়োজন করা হচ্ছে। 

এবার যোগ্যতার পরীক্ষা দিতে হবে সিভিক ভলেন্টিয়ারদের 

সরকার দ্বারা আয়োজিত সিভিক ভলেন্টিয়ারদের ঝাড়াই-বাছাইয়ের পরীক্ষায় যাচাই করা হবে সিভিকরা কতটা আইন জানেন, তাদের শারীরিক সক্ষমতা কতটা, সাধারণ মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারার ক্ষমতা তাদের আছে কিনা ইত্যাদি নানা বিষয়। এই ৫০ নম্বরের পরীক্ষার মাধ্যমে সিভিক ভলেন্টিয়ারদের যোগ্যতার বিচার করা হবে। যারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবেন, ভবিষ্যতে তাদের কোন সমস্যায় পড়তে হবে না। কিন্তু যারা পাশ করতে পারবেন না, তাদের চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

অভিযোগ ছিল, তৃণমূলের আমলে বেশিরভাগ পার্টির লোকেরাই সিভিকের চাকরি পেয়েছেন। প্রভাবশালী ‘দাদাদের’ ধরে যারা সিভিক ভলেন্টিয়ার হয়েছেন তাদের শারীরিক এবং শিক্ষাগত – কোনো যোগ্যতাই যাচাই করা হয়নি। বহু সিভিক ভলেন্টিয়ার সাধারণ মানুষের সাথে দুর্ব্যবহার করতেন বলেও নানা সময় অভিযোগ উঠেছে। তাই নতুন সরকার সিভিকদের ঝাড়াই বাছাই করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন। 

স্বরাষ্ট্র দপ্তরের তরফে জেলায় জেলায় নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে সিভিকদের শারীরিক সক্ষমতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা পরীক্ষার জন্য।  ইতিমধ্যেই কোচবিহার জেলার সিভিক ভলেন্টিয়ারদের শারীরিক পরীক্ষা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার মাপাকাঠি ঠিক করতে নম্বরও ধার্য করেছে। দুটি বিষয় মিলিয়ে মোট ৫০ নম্বর স্থির করা হয়েছে। অন্যান্য জেলাগুলোতেও একই নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে। 

রাজ্য পুলিশ জানিয়েছে, সিভিক ভলেন্টিয়ারদের শারীরিক পরীক্ষার মধ্যে রাখা হয়েছে দৌড়ানোর ক্ষমতা, সিটআপ, উচ্চতা, ওজন, ছাতির মাপের মতো বিষয়গুলি। এক থেকে পাঁচ কিলোমিটার পর্যন্ত দৌড়ানোর পরীক্ষা দিতে হবে। ওঠবোসও করতে হবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে। প্রতিটি বিষয়ে আলাদা নম্বর থাকবে, সবমিলিয়ে ২৫ নম্বর ধার্য করা হয়েছে।

পাশাপাশি, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা সম্পর্কে তাদের প্রাথমিক জ্ঞান কতটা রয়েছে, তাও পরখ করে দেখা হবে। সেই সঙ্গে পেশাগত উৎকর্ষতা ও সাধারণ কম্পিউটারের জ্ঞানের পরীক্ষাও নেওয়া হবে। সবমিলিয়ে এক্ষেত্রেও ২৫ নম্বর বরাদ্দ করা হয়েছে। সকল যোগ্যতা মিলিয়ে একটি কাট অফ মার্কস থাকবে। প্রত্যেক সিভিক ভলেন্টিয়ারদের সেই পাশ মার্কস পেতে হবে। তার ভিত্তিতে তৈরি হবে ক্রমতালিকা। আর সিভিকদের মধ্যে যাদের শারীরিক ও পেশাগত যোগ্যতা থাকবে না, তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করবে সরকার। 

Leave a Comment