ওড়িশার জঙ্গলে উদ্ধার ৫টি শিশু ওরাংওটাং, মালয়েশিয়ার প্রাণী এল কীভাবে? অবাক সকলে

সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটে গেল ওড়িশায় (Odisha)। এক বিরল দৃশ্য দেখলেন সকলে। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়াতে থাকা জন্তু কীভাবে ওড়িশার জঙ্গলে এসে পৌঁছাল সেটাই অবাক করেছে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশেষজ্ঞদের। ওড়িশার বালেশ্বর জেলার একটি জঙ্গল থেকে পাঁচটি ওরাংওটাং (Orangutan) উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রামের কাছে তাদের হঠাৎ আবির্ভাবে গ্রামবাসী ও বন কর্মকর্তাদের স্বাভাবিকভাবেই অবাক করেছে। উদ্ধার হওয়া ওরাংওটাংদের মধ্যে দুটি মেয়ে এবং তিনটি ছেলে রয়েছে। এদের বয়স আনুমানিক ১ বছরের মধ্যেই বলে খবর।

ওড়িশার জঙ্গলে ওরাংওটাং!

বাঁদরের প্রজাতির এই ওরাংওটাং ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়ার কিছু অংশে পাওয়া যায়। ভারতীয় জঙ্গলে এদের দেখা মেলে না। সূত্রের খবর, ভোগরাই ব্লকের বড়াপাহি গ্রামের কাছে বিচিত্রপুর বন এলাকায় ওরাংওটাংগুলোকে দেখা যায়। যে গ্রামবাসীরা প্রথম তাদের দেখেছিলেন, তারা প্রাণীগুলো সম্পর্কে নিশ্চিত ছিলেন না এবং এলাকার অন্য লোকদের খবর দেন। এই অস্বাভাবিক ঘটনাটি দ্রুত গ্রামে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। জঙ্গলের দিকে আরও লোকজন আসতে থাকলে, অনেক বাসিন্দা তাদের মোবাইল ফোনে ওরাংওটাংগুলোর ছবি ও ভিডিও তুলতে শুরু করে। এরপর সেই ফুটেজ স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে বিদ্যুতের গতিতে ভাইরাল হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ বেতন নরেন্দ্র মোদির ১৩৭ গুণ বেশি, আরও আয় বাড়ল বিশ্বের সবচেয়ে ধনী প্রধানমন্ত্রীর

এদিকে প্রাণীগুলোর বিষয়ে খবর পেয়ে বন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। উদয়পুর ফরেস্ট রেঞ্জার সঞ্জয় মোহন্তীর নেতৃত্বে একটি উদ্ধারকারী দল পাঁচটি ওরাংওটাংকেই নিরাপদে ধরার কাজ শুরু করে। উদ্ধার অভিযানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রাণীগুলোকে উদয়পুর বন দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কর্মকর্তারা এখন তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দেখবেন। জানা গিয়েছে,

ওরাংওটাংরা কীভাবে ওড়িশায় পৌঁছালো?

এই পাঁচটি প্রাণীর সন্ধান পাওয়ায় বন্যপ্রাণী কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, কারণ ওরাংওটান ভারতের স্থানীয় প্রাণী নয়। এদের প্রাকৃতিক আবাস মূলত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সীমাবদ্ধ, তাই ওড়িশার উপকূলীয় জঙ্গলে এদের উপস্থিতি বেশ অস্বাভাবিক। এই প্রাণীগুলো কোথা থেকে এসেছে এবং কীভাবে বালেশ্বরে পৌঁছাল, তা জানতে কর্মকর্তারা একটি তদন্ত শুরু করেছেন। বালেশ্বরের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (বন্যপ্রাণী) প্রতীক প্রকাশ ইন্দালকার বলেছেন, প্রাণীগুলোর বিস্তারিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। কেউ কেউ পাচারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না। প্রতীক প্রকাশ ইন্দালকার জানিয়েছেন, ‘পাচার হওয়ার একটি সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে, তবুও এখনও কোন শেষমেষ প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যেহেতু তাদের স্বাভাবিক আবাসস্থল ট্রপিকাল রেইনফরেস্ট, তারা স্বাভাবিকভাবেই সেখানে স্থানান্তরিত হতে পারত না। এটা মানুষেরই কাজ হতে পারে। তারা কীভাবে সেখানে পৌঁছেছে তা জানার জন্য তদন্ত চলছে।’

Leave a Comment