প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ককরোচ জনতা পার্টির (Cockroach Janata Party) আন্দোলনের জেরে গোটা দেশ জুড়ে বিক্ষোভমূলক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আর সেই বিক্ষোভের ছায়া পড়ল এবার কলকাতায় (Kolkata)। গতকাল, শুক্রবার সন্ধ্যায় ধর্মতলার মোড়ে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনকারী এবং পুলিশের মধ্যে ব্যাপক গন্ডগোল হয়েছিল। উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল পরিস্থিতি। এমনকি খবর কভার করতে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভের শিকার হয়েছিল সাংবাদিকরা। এমতাবস্থায় প্রতিবাদের নামে এই অশান্তি তৈরি হওয়ায় সোমবার পথে নামতে চলেছে বিজেপি, করা হবে ‘তিরঙ্গা যাত্রা’ (Tiranga Yatra)।
কলকাতায় উত্তাল পরিস্থিতি আন্দোলনকে ঘিরে
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল, শুক্রবার, ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের সমর্থনে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কলকাতার রাজপথে। পাশাপাশি মেডিক্যাল প্রবেশিকার মতো পরীক্ষাগুলোয় স্বচ্ছতা ফেরানো এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিল করেছিল বাম ছাত্র সংগঠনগুলি। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই শুরু হয় বিশৃঙ্খলা মূলক পরিস্থিতি। ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ের কাছে অবস্থান বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয় জুতো- জলের বোতল। শুধু তাই নয় সাংবাদিকদের নিগ্রহের অভিযোগও ওঠে। এবার তারই প্রতিবাদে পথে নামতে চলেছে বিজেপি।
পথে নামতে চলেছে বিজেপি
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী সোমবার বিকেল ৩টেয় শিয়ালদহ স্টেশন থেকে শুরু করে শিয়ালদহ ফ্লাইওভার, মৌলালি, এস এন ব্যানার্জি রোড হয়ে ‘তিরঙ্গা যাত্রা’ করবে উত্তর কলকাতার বিজেপি সংগঠনের কর্মী সমর্থকরা। আর সেখান থেকে পৌঁছবে ডোরিনা ক্রসিংয়ে। এই মিছিল প্রসঙ্গে উত্তর কলকাতার বিজেপি জেলা সভাপতি জানিয়েছেন, “প্রতিবাদ মানে সাংবাদিক পেটানো নয়। প্রতিবাদ মানে ভারত বিরোধী স্লোগান নয়।” অন্যদিকে রাস্তায় নামছে ছাত্র সংগঠন এবিভিপি, শিক্ষক-অধ্যাপকদের সংগঠন এবিআরএসএম, বিএসএম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালক সংগঠন বিদ্যা ভারতী-সহ কয়েকটি সংগঠনও। আজ থেকেই জেলায় জেলায় শুরু হবে কর্মসূচি।
আরও পড়ুন: সেবাশ্রয় থেকে আমফান ত্রাণ, আজ বিধানসভায় অভিষেকের দুর্নীতির রিপোর্ট দেবেন মুখ্যমন্ত্রী
অন্যদিকে আন্দোলনের জেরে গতকাল, শুক্রবার, বিক্ষোভকারীরা পুলিশের উপর হামলা করা নিয়ে নিন্দা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। এই বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আক্রান্ত হওয়া সাংবাদিকদের দেখতে হাসপাতালে যান শুভেন্দু অধিকারী এবং বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন এসএসকেএমে গিয়ে আহত সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন বাম ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বও।