সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভারতের সড়ক নিরাপত্তায় এবার বিরাট পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে কেন্দ্র সরকার। চালকদের নিরাপত্তা মজবুত করার জন্য দেশজুড়ে চালু হতে চলেছে ভেহিকেল টু ভেহিকেল যোগাযোগ প্রযুক্তি (V2V Technology)। জানা গিয়েছে, এই ব্যবস্থা চালু হলে এক গাড়ির সঙ্গে আরেক গাড়ির যোগাযোগ করতে পারবে, তাও ইন্টারনেট বা মোবাইল নেটওয়ার্ক ছাড়াই। আর বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি কার্যকর হলে পথ দুর্ঘটনা অনেকটাই কমবে।
কী এই ভেহিকেল টু ভেইকেল প্রযুক্তি?
জানিয়ে রাখি, V2V বা ভেহিকেল টু ভেহিকেল প্রযুক্তি মূলত গাড়ির মধ্যে সরাসরি তথ্য আদান-প্রদানের একটি আধুনিক ব্যবস্থা। এই সিস্টেমের মাধ্যমে গাড়িগুলি একে অপরকে গাড়ির গতি, দূরত্ব চলাচলের দিক, হঠাৎ ব্রেকের সতর্কতা বা সামনে কোনও বিপদের আশঙ্কা জানাতে পারবে। এর ফলে চালক আগেভাগে সতর্ক হতে পারবে এবং দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন: ভারতের উপর চাপতে পারে ৫০০ শুল্ক, বিরাট সিদ্ধান্তের পথে আমেরিকা
কীভাবে কাজ করবে এই প্রযুক্তি?
যেমনটা জানা গিয়েছে, প্রতিটি গাড়ির ভেতরে একটি ছোট্ট ইলেকট্রনিক ডিভাইস বসানো হবে, যেটি দেখতে অনেকটা সিম কার্ডের মতো হতে পারে। এই ডিভাইসটি আশেপাশের গাড়ির সঙ্গে নিয়মিত সিগন্যাল আদানপ্রদান করবে। আর এর সবথেকে বড় সুবিধা হল- এই প্রযুক্তি সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক ছাড়াই চলে। ফলত দুর্গাম এলাকা, পাহাড়ি রাস্তা বা নেটওয়ার্ক না থাকা জায়গাতে এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে বলেই মত প্রকাশ করছে বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য, দেশে শীতকালে কুয়াশার কারণে বহু দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে হাইওয়েতে। আর এই প্রযুক্তি এই ধরনের পরিস্থিতিতে সবথেকে কার্যকর হতে পারে। এই সিস্টেম চালকদের সামনে হঠাৎ করে থামা গাড়ি, কুয়াশার মধ্যে খুব কাছে চলে আসে গাড়ি, এমনকি পিছন থেকে দ্রুত গতিতে আসে যানবাহনগুলিকে সতর্ক করবে। ফলে চোখে না দেখলেও চালক আগেভাগেই বিপদের আঁচ বুঝতে পারবে এবং গাড়ি থামাতে পারবে।
আরও পড়ুন: ‘মমতার শাসনে নিরাপদ নন রাজ্যপালও!’ আনন্দ বোসকে বোমায় উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি
সবথেকে বড় ব্যাপার, এই প্রযুক্তির অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো- চারদিক থেকে সতর্কতা পাওয়া যাবে। অর্থাৎ, গাড়ির সামনে, পিছনে বা দুই সাইডে যে কোনও দিক থেকে বিপদের সম্ভাবনা থাকলে সঙ্গে সঙ্গে চালক সতর্ক হতে পারবে। বিশেষ করে ব্যস্ত শহরের রাস্তা বা জাতীয় সড়কে এটি বিরাট ভূমিকা রাখবে। জানিয়ে রাখি, এই প্রযুক্তি অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম অর্থাৎ ADAS এর সঙ্গে কাজ করবে। বর্তমানে কিছু প্রিমিয়াম গাড়িতে সেন্সর ও ক্যামেরাভিত্তিক ADAS সিস্টেম যুক্ত রয়েছে। আর এই প্রযুক্তি যুক্ত হলে সেই নিরাপত্তা যে আরও একধাপ বাড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।