সহেলি মিত্র, কলকাতা: তারাপীঠের ছায়া এবার কলকাতায়। হোটেলে ভয়ঙ্কর অগ্নিকাণ্ডের (Kolkata Hotel Fire) জেরে কমপক্ষে মৃত্যু হল ৯ জনের। নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে আগুন লাগে বলে খবর। হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ নয়জনের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। অনেকেই ধোঁয়ার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
কলকাতার হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত কমপক্ষে ৯
সূত্রের খবর, নিউ মার্কেটের ওই হোটেলে গতকাল রাত দুটো নাগাদ আগুন লাগে। এরপর দ্রুত খবর পেয়ে আসে দমকলের চারটি ইঞ্জিন। পৌঁছায় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীও। হোটেলে বেশ কয়েকজন অতিথি ছিলেন। ৯ জনকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর সকলকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। আরও ৬ জনের চিকিৎসা চলছে বলে খবর। জানা গিয়েছে, দমকলের চারটি ইঞ্জিন হোটেলের আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে। হোটেলের মালিকের এখনও কোনও খোঁজ মেলেনি, তাই হোটেলের ম্যানেজারকে আটক করে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এহেন মর্মান্তিক ঘটনায় স্থানীয়রা গভীর শোক প্রকাশ করছেন। তাঁরা সরকারের কাছে অগ্নি নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছেন। দমকল কর্মকর্তারা জানান, দুর্ঘটনার সময় হোটেলটিতে ৩০ জনেরও বেশি লোক ছিলেন। পুলিশ একটি মামলা দায়ের করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
তারাপীঠের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে মৃত অনেকে
উল্লেখ্য, গত সোমবার বীরভূম জেলার তারাপীঠের একটি হোটেলে আগুন লাগে। এই ঘটনায় এখনো অবধি কমপক্ষে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে পাঁচজন মেঘালয়ের এবং চারজন পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ারের বাসিন্দা ছিলেন। ঘটনায় মঙ্গলবার পুলিশ গ্রেফতার করেছে হোটেলের মালিক কল্যাণ পাল এবং তাঁর ছেলে ও সহ-মালিক প্রবীর পাল। পুলিশের অভিযোগ, তাদের তদন্তে প্রতিষ্ঠানটির অগ্নি সুরক্ষা ব্যবস্থায় একাধিক ত্রুটি পাওয়া গেছে। দমকল ও জরুরি পরিষেবা বিভাগের প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, তারাপীঠ থানার কাছে অবস্থিত হোটেল বিদেশিনীর নিচতলায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
চারতলা হোটেলটির নিচতলায় ভোর সাড়ে ৪টার দিকে আগুন লাগে, যখন বেশিরভাগ অতিথি ঘুমিয়ে ছিলেন। হোটেলটিতে বের হওয়ার দুটি রাস্তা ছিল। কিন্তু আগুনের কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায়, অন্ধকারে অনেকেই পেছনের দরজাটি খুঁজে পাচ্ছিলেন না।বীরভূমের এসপি বিদিত রাজ ভুন্দেশ বলেছেন, ‘নিচতলায় শর্ট সার্কিটের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে, যা পরে ভবনের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে।’ তিনি বলেন, হোটেলের সামনের গেট বন্ধ ছিল এবং কেবল পেছনের গেটটি খোলা থাকায় অতিথিদের সরিয়ে নিতে অবাকটাই দেরি হচ্ছিল।