অনন্যা সরকার, বোধগয়া: ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের যুগে এখন অর্থ লেনদেন পরিষেবা হাতের মুঠোয়। তবে আর্থিক প্রতারণারও শিকার হন বহু গ্রাহক। নিমেষের মধ্যে উধাও হয়ে যায় ব্যাংক থেকে লাখ লাখ টাকা। কিন্তু যদি কোটি কোটি টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢোকে আপনার অজান্তেই? এমনই এক আশ্চর্য ঘটনা ঘটেছে বিহারের গয়া জেলার অন্তর্গত বোধগয়া ব্লকের মস্তপুরা গ্রামনিবাসী বিকাশ কুমারের সাথে। জিও পেমেন্টস ব্যাংকের (Jio Payments Bank) অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স চেক করতে গিয়ে দেখেন তার খাতায় রয়েছে ২৯৪ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা। প্রথমে যান্ত্রিক ত্রুটি বলে মনে হলেও, একাধিক বার চেক করার পরেও একই ব্যালেন্স দেখায় জিও ফাইন্যান্স (Jio Finance) অ্যাপ।
ব্যাংকের ক্রটি নাকি টেকনিক্যাল সমস্যা?
বোধগয়ার মস্তপুরা গ্রামের বাসিন্দা বিকাশ কুমার ইলেকট্রিক ও কলমিস্ত্রির কাজ করেন। তিনি জানান তার জিও পেমেন্ট ব্যাংকের অ্যাকাউন্টটি প্রায় পাঁচ বছরের পুরনো। গত পাঁচ বছরে সেখানে খুব বেশি করে ৬- ৭ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, দুদিন আগে যখন তিনি জিও ফাইন্যান্স অ্যাপ থেকে তার অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স চেক করতে যান তখন দেখেন তার অ্যাকাউন্টে রয়েছে ২,৯৪,৮০,০০,০০০ (২৯৪ কোটি ৮০ লক্ষ) টাকা। খুব স্বাভাবিকভাবেই এটা দেখে প্রথমে তিনি মনে করেছিলেন বোধ হয় কোন যান্ত্রিক ত্রুটির ফলেই এমনটা দেখাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি যখন আবার ব্যাংক ব্যালেন্স চেক করেন, সেই একই অংক স্ক্রিনে ভেসে ওঠে।
এরকম পরিস্থিতিতে শত শত কোটি টাকা তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চলে আসা কোনও রহস্যের থেকে কম নয়। সম্ভাব্য ব্যাংকিং ত্রুটি বা প্রযুক্তিগত সমস্যার আশঙ্কায় বিকাশ কুমার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলা বা কোনো ধরনের লেনদেনের চেষ্টা করেননি।
আরও পড়ুনঃ তিন ঘণ্টার রাস্তা মাত্র ১৫ মিনিটে, ভারতের জন্য গেমচেঞ্জার এশিয়ার দীর্ঘতম দ্বি-মুখী সুড়ঙ্গ
তবে এমন আজব ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই গ্রাম ও আশেপাশের এলাকায় সাড়া পড়ে গিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই খবর এখন ভাইরাল। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিতে বহু মানুষ ভিড় জমিয়েছেন বিকাশ কুমারের বাড়ি। তবে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দেখানো টাকার পরিমানটি আসলেই কোনও প্রযুক্তিগত ত্রুটি নাকি এর পেছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট হয়নি।