বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: আয়ারল্যান্ড সিরিজে যা হয়নি ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে সেটা হতে পারে! বৈভব সূর্যবংশীর (Vaibhav Sooryavanshi) অভিষেক নিয়ে আশায় বুক বাঁধছেন ভারতীয় ক্রিকেট ভক্তরা। ঠিক সেই পর্বে 15 বছরের বৈভবকে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার এক প্রাক্তন ক্রিকেটার। তাঁর মতে, বৈভবের আবার স্কুল জীবনে ফিরে যাওয়া উচিত। বাড়িতে ফিরে নিজের লেখাপড়ায় মনোযোগ দেওয়া উচিত!
বৈভবকে স্কুল জীবনে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ থেকে জনপ্রিয়তার শিখরে রয়েছেন বিহারের বৈভব সূর্যবংশী। ব্যাট হাতে ক্ষমতা প্রদর্শন করেই ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড কর্তাদের নজরে এসেছেন তিনি। বয়স যে মাত্র 15 বছর, সেটা এই ছেলের ভয়ডরহীন ক্রিকেট দেখে বোঝার উপায় নেই। আয়ারল্যান্ড এবং ইংল্যান্ড দুই দলের বিরুদ্ধে টি টোয়েন্টি সিরিজের স্কোয়াডে রাখা হয়েছে তাঁকে। অনেকেই আশা করেছিলেন আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুই টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সিরিজে হয়তো অভিষেক হতে পারে তাঁর। তবে সেটা হয়নি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অল্প বয়সে অভিষেক করে বৈভবের হাতে সুযোগ রয়েছে ক্রিকেটের ভগবান সচিন তেন্ডুলকরের রেকর্ড গুঁড়িয়ে দেওয়ার। তবে সেজন্য তো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সুযোগ পেতে হবে। অনেকেরই আশা, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের সিরিজের যে কোনও একটিতে সুযোগ পেতে পারেন বৈভব। এমতাবস্থায়, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন ক্রিকেটার ড্যারিল কালিনান ক্রিক ইনফোর জন্য লেখা এক কলামে জানিয়েছেন, বৈভবের উচিত আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়া।
তাঁর কথায়, “বৈভব সূর্যবংশীর মধ্যে আমরা যা দেখেছি সেটা শুধু বয়সের তুলনায় ভাল ক্রিকেট খেলা নয় বরং একজন প্রতিভাবান ক্রিকেটারের দায়িত্ব পালনও বটে। ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ সবেতেই দুরন্ত ক্রিকেট খেলে শিরোনামে রয়েছে একজন শিশু। ক্রিকেট এর আগে এমনটা দেখেনি। সে অবশ্যই প্রতিভাবান প্লেয়ার। ক্রিকেটে এমন বহু প্রতিভাবান প্লেয়ার এসেছেন যারা খুব অল্প সময়ের মধ্যে একাধিক স্বীকৃতি পেয়েছেন। তবে সরলতা, অসাধারণ দক্ষতা এবং সোশ্যাল মিডিয়ার এই জগত একজন শিশু ও লাখ লাখ মানুষের মধ্যে মতামতের দূরত্ব প্রায় মুছে দিয়েছে।”
অবশ্যই পড়ুন: ডলারের বিপরীতে ঘুরে দাঁড়াল ভারতীয় রুপি, দেখুন আজকের রেট
প্রাক্তন প্রোটিয়া ক্রিকেটার এও বললেন, “বৈভবের বয়স এখন সবেমাত্র 15 বছর। তাঁর জীবন কিন্তু স্বাভাবিক গতিতে ছুটছে না। সময় চলে যাওয়ার আগে আমাদের এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। আমি বলব, সে এখন বাড়িতে ফিরে যাক এবং সেখান থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগী হোক। পরীক্ষার প্রস্তুতি নিক। আবার স্কুলে যাওয়া শুরু করুক! একজন সাধারণ ছেলের মতো জীবনযাপন করুক। এর মানে এই নয় যে তাঁর প্রতিভাকে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে দিয়ে বৈভব নিজের প্রতিভাকে পুরোপুরি বিকশিত করার সুযোগ পাবে। সময়ের সাথে সাথে সব হবে!”