খামারে কাজ করেন মা, ছেড়ে গিয়েছেন বাবা! NEET-এ অভাবনীয় সাফল্য বীরভূমের যুবকের

অনন্যা সরকার, বীরভূম: সংকল্প যখন দৃঢ় হয় আর মনে থাকে বড় কিছু করার জেদ, তখন আর্থিক অনটন হোক বা আপনজনের অনুপস্থিতি – কোনো কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনা। তার-ই প্রকৃষ্ট উদাহরণ বীরভূমের আফজল হোসেন। সদাইপুর থানা এলাকার জামথলিয়া পুরাতন মসজিদপাড়ার বাসিন্দা আফজল মায়ের সাথে মামারবাড়িতে থাকেন। বহু বছর হল বাবার সাথে মায়ের বিচ্ছেদ হয়েছে। একটা খামারে সামান্য মাইনের কাজ করে সংসার চালান মা। সেই মায়েরই সন্তান আফজল সব বাধাকে জয় করে সাফল্য ছিনিয়ে এনেছে। এবছর সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট ইউজি (NEET UG Re-Exam 2026)-তে ৭২০ নম্বরের মধ্যে ৬১৯ পেয়ে সর্বভারতীয় স্তরে (All India Rank) ৫,৩১৪তম স্থান অধিকার করে নিয়েছেন আফজল হোসেন। পাড়া পড়শীরাও ভীষণ খুশি তাঁর এই সাফল্যে। 

বাবা মায়ের বিচ্ছেদ ও সংসারের অভাব স্বপ্নের পথে বাধা হতে পারেনি

প্রায় বছর করি আগে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে যায় আসুরা বেগমের। বাধ্য হয়েই দুই সন্তানকে নিয়ে বাপের বাড়ি ফিরে আসেন তিনি। এরপর শুরু হয় এক চরম জীবন সংগ্রাম। শত বাধা-বিপত্তির মধ্যেও সন্তানদের ভালোভাবে মানুষ করার লক্ষ্য থেকে কখনো সরেননি আসুরা।  মেয়ে আজিজা স্নাতক পাস করেছেন। ছেলে আফজল সুযোগ পায় পাথরচাপুড়ির আল আমিন মিশনে। সেখান থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৯০.৪৩ শতাংশ নম্বর এবং বর্ধমানের আল আমিন মিশন থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৯২ শতাংশ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হন তিনি। মেধাবী আফজল সেইসময় থেকেই স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন ডাক্তারি পড়ার। 

আরও পড়ুন: পরিবার জানতোই না নিট কী! অভাব অনটনের মধ্যেই বড় সাফল্য রিকশাচালকের ছেলের

আফজল হোসেন জানিয়েছেন, মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষার ফল তাকে একটা সাহস জুগিয়েছিল। নিট পাশ করার জন্য নিরন্তর পরিশ্রম করে গেছেন। অনলাইনে কোচিং নেওয়াও শুরু করেন। তার পাশে মায়ের সাথে সাথে পেশার গাড়িচালক ছোটমামা শেখ আবেদিনও ভীষণভাবে পাশে ছিলেন। গতবছরও নিট পরীক্ষায় বসেন তিনি, তবে মানসিক চাপে তেমন ভালো ফল করতে পারেননি।  এ বছর যখন প্রথম পরীক্ষা হয়েছিল তখন হিসেব করে দেখেছিলেন ৬৭২ মতো পেতে পারেন। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা বাতিল হয়ে যাওয়ায় অন্যান্য ছাত্র-ছাত্রীদের মতো তিনিও ভেঙ্গে পড়েছিলেন। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) যখন রি-এক্সামের ফল বের হল তখন দেখলেন খুব ভালো র‍্যাঙ্কের সাথেই পাশ করেছেন। মামা শেখ আবেদিন জানান এই দিনটার জন্যই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন। 

আরও পড়ুন: যুবশক্তির ৩০০০ পেতে লাগবে ‘প্রভিশনাল ডিগ্রি সার্টিফিকেট’, জানুন কোথায় কীভাবে পাবেন?

আফজল আশা করছেন তাঁর অল ইন্ডিয়া র‌্যাঙ্ক যা আছে, তাতে কলকাতার যেকোনও মেডিক্যাল কলেজে পড়ার সুযোগ পেয়ে যাবেন। অসুরা বেগম জানান, ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার ইচ্ছে ছিল না আফজলের। সে চেয়েছিল ডাক্তার হয়ে তাদের মতোই গরিব মানুষের সেবা করতে। এবার তার সেই স্বপ্ন সত্যি হবে বলেই আশা করছেন মা। জামথলিয়া পুরাতন মসজিদপাড়ার প্রায় ৪০০ পরিবারের বাস। এই প্রথম সেখান থেকে কেউ নিট পরীক্ষায় পাস করলেন। তাই আফজল হোসেনের এই সাফল্যে খুশি তাঁর সারা পাড়া। 

Leave a Comment