বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ভারত-বাংলাদেশের গঙ্গা জল বন্টন চুক্তিতে (Ganges Treaty) এবার নেপালকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা সামনে এলো! বাংলাদেশের জল বিশেষজ্ঞ মনজুর এ. চৌধুরীর দাবি, 1996 সালে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত গঙ্গা জল বন্টন চুক্তির পরিবর্তে একটি নতুন চুক্তি করা উচিত। সেখানে জলবায়ু পরিবর্তন থেকে শুরু করে পরিবেশগত চাহিদা এবং নেপালের (Nepal) ভূমিকা বিবেচনা করা উচিত। দ্য হিন্দুকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত গঙ্গা জলচুক্তিতে ত্রুটি রয়েছে বলেই দাবি করেছেন চৌধুরী।
ভারত এবং বাংলাদেশের চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত হবে নেপাল?
দ্য হিন্দুকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের জাতীয় নদী সংরক্ষণ কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান চৌধুরী বলেন, “বর্তমান চুক্তিটিতে ত্রুটি রয়েছে এবং আগামী ডিসেম্বরে এর মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। একটি দীর্ঘ মেয়াদী চুক্তির জন্য গবেষণা এবং আলোচনার জন্য তিন বছরের এক অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির প্রস্তাব করছি।” একই সাথে বাংলাদেশের ওই বিশেষজ্ঞ এও বলেন, গঙ্গা জল বন্টন চুক্তি তিন দশক পুরনো এবং এতে গ্যারান্টি ধারার অভাব রয়েছে।
এদিন গঙ্গা জল বন্টন চুক্তির ভুল তুলে ধরতে গিয়ে চৌধুরী বলেন, “এই চুক্তিতে বস্তুতান্ত্রিক প্রবাহ এবং পরিবেশগত প্রবাহের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা উচিত ছিল। এছাড়াও এই চুক্তিতে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়টিকেও আমলে নেওয়া হয়নি। এই চুক্তির মাধ্যমে শুধু নদীর জল ভাগাভাগি করা যায়। কিন্তু এটা সঠিক পন্থা নয়।” এরপরই বাংলাদেশের ওই বিশেষজ্ঞ বলেন, ভবিষ্যতে এই চুক্তিতে নেপালকেও অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। কারণ, গঙ্গায় প্রবাহিত নদীগুলি হিমালয়ের বরফ গলা জলে পুষ্ট।
বাংলাদেশের ওই জলসম্পদ বিশেষজ্ঞ আরও জানান, নতুন চুক্তিতে নদীর স্বাস্থ্যের কথাও মাথায় রাখা প্রয়োজন। যাতে গঙ্গার অতিরিক্ত ব্যবহার না হয় সেটাও নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর দাবি, “ডিসেম্বরে এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার আগে তিন বছরের জন্য একটি স্বল্প মেয়াদী চুক্তি করাই ঠিক হবে। এই সময়ের মধ্যে আমরা প্রযুক্তিগত এবং পরিবেশগত উন্নয়নকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি নতুন এবং টেকসই গঙ্গা জল চুক্তির খসড়া তৈরির জন্য আরও গবেষণার সুযোগ পাব।”
আরও পড়ুন: দীনেশ কার্তিকরা না চাইলেও টিম ইন্ডিয়ায় ফিরছেন শামি! কোন দলের বিপক্ষে?
বাংলাদেশের জল সম্পদ বিশেষজ্ঞ বিশেষ চুক্তিটিতে নেপালকে অন্তর্ভুক্ত করার নেপথ্যে যুক্তি হিসেবে বলেন, “ভারত সব সময় গঙ্গা জল বন্টন চুক্তিকে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হিসেবে দেখছে। কিন্তু জলের সংকটের সময় নেপালের ঘাগরা, গন্ডক ও কোসি নদী থেকে বরফ গলা জলের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পাওয়া যায়। তাই এই চুক্তিতে নেপালকে উপেক্ষা করা যায় না।” তবে বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশকে বিশেষ চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করতে চাইলেও এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানায়নি নয়া দিল্লি।