গরমের ছুটিতে দার্জিলিং বাদ দিয়ে ঘুরে আসুন সবুজে ঘেরা উত্তরবঙ্গের এই দুই স্বর্গে

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: দেখতে দেখতে গরম প্রায় চলেই এল। খুব শিগগিরই আবার গরমের ছুটি (Summer Vacation) পড়তে চলেছে স্কুল কলেজগুলিতে। এদিকে গ্রীষ্মের ছুটি মানেই বেড়াতে যাওয়ার এক লম্বা পরিকল্পনা। তবে এদিক ওদিক নয়, সোজা পাহাড়ে। ব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি কাটিয়ে কিছুটা শান্তি খুঁজতে তাই কার্শিয়াং (Kurseong) স্বর্গীয় সুখের ঠিকানা দেওয়া হল এই প্রতিবেদনে। সেখানে না থাকে প্রচণ্ড শীত, না থাকে তীব্র গরম। সব মিলিয়ে আবহাওয়া থাকে ঝাক্কাস মনোরম।

গরমে ভ্রমণের কিছু ঠিকানা

গরমের ছুটিতে কম বেশি সব বাঙালি দার্জিলিং যাওয়াটাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়, যার দরুন পর্যটকদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। তাই যারা ভিড় এড়িয়ে উত্তরবঙ্গের অফবিটে (North Bengal Offbeat) শান্ত পরিবেশে সময় কাটাতে চান, তাঁদের জন্য দুটো অফবিট জায়গার খোঁজ দেওয়া হল, যা পাহাড় প্রেমীদের জন্য আদর্শ। প্রকৃতির নির্জন সৌন্দর্য এবং নির্মল পরিবেশ এখানে পর্যটকদের আলাদা অভিজ্ঞতা দেয়। চলুন একনজরে জেনে নেওয়া যাক সেই দুই মনোমুগ্ধকর জায়গা সম্পর্কে।

পাবং

পাহাড়প্রেমীদের জন্য সিকিমের গ্যাংটক এক অসাধারণ গন্তব্য। এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার মনোরম দৃশ্য দেখা যায়, যা পর্যটকদের মুগ্ধ করে। তবে কালিম্পং থেকে কমবেশি ২৫ কিলোমিটার দূরে কার্শিয়ঙের এক নির্জন পাহাড়ি ছোট্ট গ্রাম হল পাবং। এখনো বহু পর্যটকের কাছে এই এলাকা খুবই অচেনা। হোমস্টে বা হোটেলে বসে চোখের সামনে রাঙা সূর্যাস্ত দেখতে দেখতে মন জুড়িয়ে যায়। অন্তত ২-৩ দিনের জন্য ছুটি কাটানোর পক্ষে আদর্শ জায়গা হল পাবং। চারপাশে রয়েছে সবুজ চা-বাগান, পাইন ও ওক গাছের সারি, আর দূরে বরফঢাকা হিমালয়ের শৃঙ্গ, সব মিলিয়ে মন ভরিয়ে দেয়। এখানে নেওরা ভ্যালি ন্যাশনাল পার্ক রয়েছে যা বেশ সুন্দর। প্রকৃতি, শান্তি এবং সৌন্দর্যের মেলবন্ধনে এই যাত্রা হয়ে উঠতে পারে সত্যিই স্মরণীয়।

আরও পড়ুন: ১ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে জনগণনা, এবারের আদমশুমারিতে করা হবে এই ৩৩টি প্রশ্ন

বাগোড়া

পাবং ছাড়াও কার্শিয়াঙের কাছেই রয়েছে বাগোড়া নামে আরও এক গ্রাম। গাড়ি করে যেতে হয়ত সময় লাগে প্রায় আধ ঘণ্টা মতো। এটি কার্শিয়ং সাব-ডিভিশনের অন্তর্গত। এই জায়গার আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর নির্জনতা ও শান্ত পরিবেশ। এখানে বড় হোটেল বা রিসোর্টের ভিড় নেই। কয়েকটি ছোট হোমস্টে ও স্থানীয়দের আতিথেয়তাই বাগোড়ার আসল সম্পদ। এখানে বিমানবাহিনীর একটি ভিউ পয়েন্ট রয়েছে। তা ছাড়া কয়েক কিলোমিটারের দূরত্বে রয়েছে চিমনি, ডাওহিল ও ফরেস্ট মিউজিয়াম। পাশাপাশি এখানকার আরেকটি মূল আকর্ষণ হল পরিযায়ী পাখিদের সমাহার। তাই পাখিপ্রেমী হলে এই স্থান স্বর্গসম। স্থানীয় খাবার, বিশেষ করে পাহাড়ি রান্না, পর্যটকদের আলাদা অভিজ্ঞতা দেয়।

Leave a Comment