সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ডিজিটাল ব্যাঙ্কিংকে আরও সহজ এবং দ্রুত করার জন্য বিরাট পদক্ষেপ নিল দেশের অন্যতম বৃহৎ সরকারি ব্যাঙ্ক পিএনবি বা পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক(Punjab National Bank)। ডিজিটাল ইন্ডিয়া দিবস উপলক্ষে ব্যাঙ্কটি এবার এমন একটি ডিজিটাল ঋণ পরিষেবার উপর জোর দিল, যার মাধ্যমে ফ্রন্টলাইন কর্মী থেকে শুরু করে কমিউনিটি সার্ভিস কর্মী বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সহজেই প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের সুবিধা উপভোগ করতে পারবে। আর এই স্কিমের নাম দেওয়া হয়েছে পিএনবি শ্রম সাথী প্রকল্প (PNB Shram Sathi Scheme)।
পিএনবি শ্রম সাথী প্রকল্প কী?
জানিয়ে দিই, ফ্রন্টলাইন এবং কমিউনিটি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মচারীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক শ্রম সাথী নামের একটি বিশেষ ঋণ প্রকল্প চালু করেছে। এই প্রকল্পের আওতায় অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী থেকে শুরু করে আশাকর্মী, সাফাই কর্মী, মিড ডে মিলে রাঁধুনি, বনকর্মী কিংবা অন্যান্য সরকারি বা সরকার সমর্থিত পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মচারীরা সুবিধা পাবেন। এমনকি যোগ্য আবেদনকারীরা ১০ হাজার টাকা থেকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ব্যক্তিগত ঋণ পেতে পারেন এই প্রকল্পের আওতায়।
কী কী সুবিধা রয়েছে এই প্রকল্পে?
পিএনবি শ্রম সাথী প্রকল্পে আবেদনকারীরা একাধিক সুবিধা পাবে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল—
- এখানে কোনও গ্যারান্টির প্রয়োজন পড়ে না।
- কোনও প্রসেসিং ফি দেওয়া লাগে না।
- সর্বোচ্চ ৩৬ মাস পর্যন্ত ঋণ শোধের সুযোগ থাকে।
- সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় আবেদন এবং পরিষেবা পাওয়া যায়।
পিএম e-SVANidhi প্রকল্পেও জোর দিচ্ছে পিএনবি
এদিকে পথ বিক্রেতা বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার জন্য e-SVANidhi প্রকল্পে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যবসার জন্য মূলধন হিসেবে ঋণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও জনপ্রিয় করার জন্য ইউপিআই ভিত্তিক লেনদেনে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। সবথেকে বড় ব্যাপার, e-SVANidhi প্রকল্পে ধাপে ধাপে ঋণের পরিমাণ আরও বাড়ানো হয়। প্রথম পর্যায়ে দেওয়া হয় ৫০০০ টাকা। তারপর আরও ১০,০০০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত সুবিধা মেলে। যারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করেন, তারা পরবর্তী ধাপে আরও বেশি পরিমাণে ঋণ নেওয়া সুযোগ পায়।
আরও পড়ুন: মোবাইল দিয়েই বন্ধ হচ্ছিল টোটো! সেই অ্যাপ নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র
আর এই প্রকল্পের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা রয়েছে। প্রথমত, এখানে কোনও প্রসেসিং ফি দিতে হয় না। দ্বিতীয়ত, এখানে ডিজিটাল প্রেমেন্ট গ্রহণে উৎসাহ দেওয়া হয় এবং ঋণের শূন্য মার্জিনের সুবিধা পাওয়া যায়। পাশাপাশি ব্যবসাকে আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় আনার সুযোগ মেলে। এমনকি এর ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সহজেই ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় ঋণ পেতে পারে।