আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের (Cyclone Arnab) প্রভাবে বদলে গিয়েছে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া। মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকেই পূর্ব মেদিনীপুর-সহ (East Midnapore) দক্ষিণবঙ্গের একাধিক এলাকায় শুরু হয় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া। বুধবারও দুর্যোগের আশঙ্কা কাটেনি। এরই মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথিতে (Kanthi)। ঝড়ের দাপটে এলাকার রাস্তা, গাছপালা-সহ বিভিন্ন জায়গায় একাধিক ক্ষয়ক্ষতির ছবি সামনে এসেছে।
কী অবস্থা কাঁথির?
কাঁথিতে ঝোড়ো হাওয়ার দাপটে একাধিক গাছ উপড়ে পড়েছে। কোথাও গাছ ভেঙে বিদ্যুতের তারের উপর পড়ে যাওয়ায় বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি বড় বড় ব্যানারও উল্টে পড়েছে। ঝড়ের তীব্রতায় বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে ভেঙে গিয়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এলাকার একাধিক অংশ, যার জেরে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতেও বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দিঘা, মন্দারমণি ও তাজপুরের মতো পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে সমুদ্র উত্তাল থাকায় পর্যটকদের সমুদ্রে নামতে নিষেধ করা হয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে মাইকিং করে সতর্কবার্তা দিচ্ছে পুলিশ। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতিও নিয়েছে প্রশাসন।
আরও পড়ুন: ভরদুপুরে আরামবাগে উল্টে গেল যাত্রীবোঝাই বাস, আহত একাধিক যাত্রী
জেলা প্রশাসনের তরফে দুর্যোগ মোকাবিলায় একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরের বিভিন্ন ব্লকে উদ্ধারকারী দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ, পানীয় জল ও বন দফতরের কর্মীদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বিপর্যয়ের পরিস্থিতিতে বাসিন্দাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য ত্রাণশিবির ও স্কুল ভবন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নদী ও সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া মৎস্যজীবীদেরও সতর্ক করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: মালদায় গাছে উঠে ফেঁসে গেল নারকেল চোর, নামাতে দমকল ও পুলিশ ডাকল বন বিভাগ
শুধু পূর্ব মেদিনীপুর নয়, ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামের বিভিন্ন এলাকাতেও ঝড়-বৃষ্টির দাপট দেখা গিয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদা ও দাঁতনে ঝড়ের জেরে গাছ ভেঙে পড়েছে, কোথাও বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গিয়েছে। ঝাড়গ্রামের কয়েকটি এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ায় পাকা ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে এবং লক্ষ্মীপুজোর মণ্ডপেরও ক্ষতি হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে।