চায়ের দোকানে কাজ করে UPSC ক্র্যাক, IAS হিমাংশুর কাহিনী শক্তি জোগাবে আপনাকেও

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: কঠোর পরিশ্রম, অদম্য জেদ এবং ভিতরে ইচ্ছাশক্তি থাকলে যে কোনও কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়ায় না তা আবারো প্রমাণ করে দিলেন হিমাংশু গুপ্তা (Himanshu Gupta)। উত্তরপ্রদেশের বেরেলির এক সাধারণ চা বিক্রেতার ছেলে হয়ে আজ দেশের সবথেকে শীর্ষ আমলা। তিনি কোনও নামি কোচিং সেন্টারের সাহায্য ছাড়াই ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় (UPSC Civil Service Examination) সাফল্য অর্জন করে তিনি আইএএস অফিসার হয়েছেন। হ্যাঁ, হিমাংশুর এই লড়াইয়ের গল্প আজ লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীদের কাছে অনুপ্রেরণা (UPSC Success Story)। জানুন তাঁর জীবনের উত্থানপতনের সেই চিত্র।

চায়ের দোকানের কাজ এবং পড়াশোনা

জানা যাচ্ছে, হিমাংশুর জন্ম হয় এক অত্যন্ত সাধারণ পরিবারে। নুন আনতে পান্তা ফুরানো অবস্থা তাঁদের সংসারে। বাবার একটি ছোট্ট চায়ের দোকান ছিল। ছোটবেলা থেকেই হিমাংশু সেই চায়ের দোকানে তাঁর বাবাকে সাহায্য করতেন। এমনকি খদ্দেরদের চা পরিবেশন করতেন হিমাংশু। আর অভাবের মধ্যেও পড়াশোনার প্রতি টান ছিল অগভীর। দোকানের কাজের ফাঁকেই খবরের কাগজ পড়ে নিজের সাধারণ জ্ঞান অর্জন করতেন হিমাংশু। আর তিনি জানতেন যে, শিক্ষা ছাড়া এই দারিদ্রতা থেকে বেরিয়ে আসা সত্যিই অসম্ভব।

জানা যায়, তিনি মেধার জেরেই দিল্লির বিখ্যাত হিন্দু কলেজে পড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে বড় শহরে থাকা এবং পড়াশোনার খরচ চালানোর কার্যত তাঁর কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। সেই খরচ মেটানোর জন্য হিমাংশু টিউশন পড়ানো শুরু করেন। পাশাপাশি নিজের খরচ জোগাতে পেইড ব্লগ লিখতেন তিনি। হিমাংশুর মতে, মেট্রো শহরে থাকার এই অভিজ্ঞতা তাঁকে যেন আরও আত্মবিশ্বাসী গড়ে তুলেছিল।

আরও পড়ুন: গরমের ছুটিতে দার্জিলিং বাদ দিয়ে ঘুরে আসুন সবুজে ঘেরা উত্তরবঙ্গের এই দুই স্বর্গে

প্রথমবার ইউপিএসসি পরীক্ষা দিয়ে হিমাংশু সাফল্য পেয়েছিলেন। তবে র‍্যাঙ্ক কিছুটা বেশি আসার কারণে তিনি ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ট্রাফিক সার্ভিসে যোগদান করেছিলেন। তবে সরকারি চাকরিতে যোগ দিলেও হিমাংশু তাঁর লক্ষ্য থেকে কোনও রকম ভাবে বিচ্যুত হননি। চাকরির পাশাপাশি আবারও তিনি পুনরায় প্রস্তুতি শুরু করেন। অবশেষে ২০১৯ সালে ৩০৪ তম র‍্যাঙ্ক অর্জন করে নিজের আইএএস হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করেন তিনি। এক কথায়, তাঁর এই সাফল্যের পেছনে কোনও দামি বই বা কোচিং নয়, বরং নিজের ওপর অটুট বিশ্বাসই রয়েছে। আর তিনি প্রমাণ করেছেন যে, কোথা থেকে এসেছেন সেটা বড় কথা নয়, বরং কোথায় পৌঁছতে চান সেটাই আসল। নিজের ভিতর ইচ্ছাশক্তি থাকলে কোনও কিছুই অসম্ভব নয়।

Leave a Comment