বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: অপারেশন সিঁদুরে ব্যবহার হয়েছিল। চিনের কাছ থেকে এবার সেই যুদ্ধবিমান কিনতে চলেছে বাংলাদেশ। জানা যাচ্ছে, ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তান যে J-10CE যুদ্ধবিমান ব্যবহার করেছিল, 2.2 বিলিয়ন ডলার খরচ করে এবার সেই যুদ্ধবিমানে নজর পড়েছে প্রতিবেশীর। আপাতত যা খবর, চিন সফরে শি জিনপিং এর সাথে দেখা করেই এই যুদ্ধবিমান কেনার কথা পাকা করে ফেলতে পারেন বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কূটনৈতিক মহলের কেউ কেউ বলছেন, চিনের কাছ থেকে বাংলাদেশের এই যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়টি ভারতের জন্য বেশ খানিকটা চিন্তার!
ভারতের সাথে দ্বিমুখী লড়াইয়ের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আজ অর্থাৎ 25 জুন চিন সফরে গিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কয়েকটি সূত্র মারফত খবর, আজ চিনের প্রেসিডেন্টের সাথে বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার পেতে পারে শিল্প এবং বাণিজ্য। সেই সাথে জিনপিং এর দেশ থেকে একসাথে 24টি J-10CE যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাব রাখতে পারেন তারেক।
মনে করা হচ্ছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাথে পাকা কথা হয়ে গেলেই নির্দিষ্ট সময় দেখে ওপার বাংলায় যুদ্ধবিমানগুলি পাঠিয়ে দেবে চিন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকিস্তানের পর বাংলাদেশও যদি চিনের এই ভয়ানক যুদ্ধবিমান পেয়ে যায় সে ক্ষেত্রে ভারতের সামনে আকাশ পথে দ্বিমুখী লড়াইয়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়ে যেতে পারে।
যা জানা যাচ্ছে, চিন সফরে জিনপিং এর সাথে বৈঠক চলাকালীন আগামী আগস্ট মাসের মধ্যেই নির্দিষ্ট যুদ্ধবিমানগুলি কেনা নিয়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত জানাতে পারে বাংলাদেশ। বলে রাখা প্রয়োজন, বাংলাদেশের বায়ুসেনার আধুনিকীকরণ এবং শক্তি বৃদ্ধির জন্যই চিনের কাছ থেকে উন্নত সংস্করণের বিমানগুলি কিনতে চাইছে বাংলাদেশ। বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করছেন, বাংলাদেশের এমন পদক্ষেপ যে শুধু বঙ্গোপসাগরের ক্ষমতার সমীকরণ বদলে দেবে, তাই নয় একাধিক দিক থেকে ভারতের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। কাজেই চিনের সাথে বাংলাদেশের কী চুক্তি হয় সেদিকে নজর রয়েছে নয়া দিল্লির।
অবশ্যই পড়ুন: কাঁপবে শত্রুরা! নির্ভুল লক্ষ্যে আঘাত হানল DRDO-র তৈরি VSHORADS
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে তারেক রহমানের হাত ধরে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসতেই পুনরায় লালমনিরহাট বিমানঘাঁটি চালু করতে চাইছে সে দেশে সরকার। সেই মর্মেই চলছে কাজ। বলে রাখা প্রয়োজন, ভারতীয় সীমান্ত থেকে বাংলাদেশের এই বিমানঘাঁটির দূরত্ব 12,015 কিলোমিটার। সূত্রের খবর, এই বিমান ঘাঁটিতেই একাধিক শক্তিশালী যুদ্ধবিমান মোতায়েন করতে চায় বাংলাদেশ। এমতাবস্থায়, চিনের কাছ থেকে J-10CE যুদ্ধবিমান কেনার বাংলাদেশের যে পরিকল্পনা তা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।