আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: রাজনীতি থেকে চিরতরে সন্ন্যাস! আগামী দিনে আর রাজনীতির ময়দানে থাকতে চান না কলকাতার (Kolkata) প্রাক্তন মেয়র (Mayor) ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)। আসন্ন পুরভোটে নিজে প্রার্থী না হওয়ার পাশাপাশি পরিবারের কাউকেও ভোটে দাঁড় করানোর ইচ্ছা নেই বলে ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন তিনি। সূত্র অনুযায়ী, এখন শুধু বিধায়ক পদের মেয়াদ শেষ হওয়ার অপেক্ষা, তারপরই রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি। ফিরহাদের কথায়, “রাজনীতির পঙ্কিল আবর্তে আগামিদিনে থাকব না। আমি কলকাতা বন্দরের বিধায়ক। সেখানকার মানুষের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা আছে। যতদিন আমার বিধায়ক পদের মেয়াদ আছে, ততদিন তাঁদের সেবক হয়ে কাজ করব। তারপর আর রাজনীতিতে আমি নেই।”
হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত কেন?
দীর্ঘদিনের সফল রাজনৈতিক জীবনের পর এই বয়সে এসে হঠাৎ কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি? প্রিয় দল হেরে যাওয়ায় এবং বিরোধীদল ক্ষমতার দখল নেওয়ার জন্যই কি এমন ইঙ্গিত? তাঁর বক্তব্যে নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কিছুদিন আগে হুমায়ুন কবীরও রাজনীতি ছেড়ে অন্য দেশে চলে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
ফিরহাদ হাকিমের রাজনৈতিক জীবন দীর্ঘদিনের। ১৯৫৯ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন তিনি। কলকাতার কালিঘাট হাই স্কুলে পড়াশোনার পর হেরম্বচন্দ্র কলেজ থেকে বাণিজ্যে স্নাতক হন। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম পরিচিত নেতা হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হয়ে ওঠেন তিনি। ২০০০, ২০০৫ ও ২০১০ সালে কলকাতা পুরসভার ৮২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালে আলিপুর কেন্দ্রের উপনির্বাচনে জয়ের মাধ্যমে বিধানসভায় প্রবেশ করেন। পরে কলকাতা বন্দর কেন্দ্র থেকে একাধিকবার বিধায়ক নির্বাচিত হন এবং রাজ্য সরকারের নগরোন্নয়ন ও পুর বিষয়ক দফতরের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলান।
২০১৮ সালের ডিসেম্বরে কলকাতার মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন ফিরহাদ। ২০২১ সালের পুরভোটের পর দ্বিতীয়বার এই পদে বসেন তিনি। প্রায় সাড়ে সাত বছর মহানাগরিক থাকার পর ২০২৬ সালের ৫ জুন পদত্যাগ করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, মেয়র পদে থেকে আগের মতো কাজ করা সম্ভব হচ্ছিল না এবং তিনি সম্মানের সঙ্গে দায়িত্ব ছাড়তে চান।
আরও পড়ুন: মন্দারমণিতে উত্তাল সমুদ্র, হোটেলে ঢুকল জল
মেয়র হিসেবে তাঁর কার্যকালে কোভিড অতিমারি ও আমফানের মতো বিপর্যয় মোকাবিলা, নাগরিকদের কাছে পুর পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া, অনলাইনে বাড়ির নকশা অনুমোদনের ব্যবস্থা এবং জল সরবরাহ ও নিকাশি পরিকাঠামোর উন্নয়নের মতো বিষয়গুলি গুরুত্ব পেয়েছিল। নাগরিকদের সমস্যা সরাসরি শোনার জন্য ‘টক টু মেয়র’ উদ্যোগও তাঁর অবদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। তবে তাঁর রাজনৈতিক জীবনে একাধিক বিতর্কও রয়েছে। এখন বিধায়ক পদের মেয়াদ শেষে সত্যিই তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান কি না, সেটাই দেখার বিষয়।