আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: বারুইপুরে (Baruipur) তৃণমূল (TMC) নেতা দ্বিজেন মণ্ডলের বাড়িতে বৃহস্পতিবার রাতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। বারুইপুর পূর্বের উত্তরভাগ লাল পোল এলাকার দোতলা বাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনার জেরে ঘরের জানলা-দরজা দেওয়াল সব টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছে। বিস্ফোরণে বাড়ির শাটার ও টিনের অংশও ছিটকে গিয়ে পাশের বাড়িতে পড়ে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর নেই। ঘটনার পর এলাকায় পৌঁছয় পুলিশ ও দমকল। জোরকদমে শুরু হয়েছে তদন্ত।
একাধিক বোমা মজুতের অভিযোগ
স্থানীয় সূত্র এবং ওই এলাকার বিজেপি (BJP) নেতাদের অভিযোগ, ওই বাড়িতে নাকি অনেকদিন ধরেই প্রচুর পরিমাণে বোমা মজুত করে রাখা হয়েছিল। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে আশপাশের বাড়িগুলি রীতিমতো কেঁপে ওঠে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ঘটনার পর আশপাশের কয়েকটি বাড়ির বাসিন্দা অসুস্থ হয় পড়েন। জানা যাচ্ছে, বিস্ফোরণের সময় বাড়িতে ছিলেন না দ্বিজেন মণ্ডল। স্থানীয় সূত্রের দাবি, রাজ্যে শাসকদলের পালাবদলের পর থেকেই তাঁকে ওই এলাকায় খুব একটা দেখা যায়নি।
বারুইপুরে তৃণমূল নেতা দ্বিজেন মণ্ডলের বাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ।বিস্ফোরণের তীব্রতায় ভেঙে পড়ে বাড়ির একাংশ।উড়ে গিয়েছে ঘরের চাল,দরজা-জানলা।তীব্রতা এতটাই ছিল যে সামনের বাড়িতে গিয়ে উড়ে পড়ে শাটার,টিন।বিজেপির অভিযোগ,ওই তৃণমূল নেতার বাড়িতে বোমা মজুত রাখা ছিল, তার জেরেই বিস্ফোরণ। pic.twitter.com/2ozO3CbUj6
— Tolamul Monitor (@TMCWatch) September 11, 2026
আদৌ বোমা মজুত ছিল? নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোন কারণ? সেসব এখনও নিশ্চিত করেনি পুলিশ। বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অতীশ বিশ্বাস জানিয়েছেন, প্রাথমিক ভাবে দেখে মনে হচ্ছে বাড়িতে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে এই বিস্ফোরণ হয়ে থাকতে পারে। রাতেই দমকল ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। জানা যাচ্ছে, বিস্ফোরণের কারণ খতিয়ে দেখতে এবার ফরেন্সিক দলও ঘটনাস্থলে যাবে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের পরই বিস্ফোরণের আসল কারণ স্পষ্ট করে বলা সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন: টাকার মতোই এবার ATM থেকে মিলবে ডেবিট কার্ডও! শীঘ্রই চালু হচ্ছে নতুন ব্যবস্থা
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে এখনও পর্যন্ত বিস্ফোরক জাতীয় কোনও বস্তু বা সন্দেহজনক কিছুই পাওয়া যায়নি। ফলে স্থানীয়দের বোমা মজুতের অভিযোগের সঙ্গে পুলিশের প্রাথমিক অনুমানের কোনও মিল নেই। ঠিক কী কারণে বিস্ফোরণ ঘটল, বাড়িতে আদৌ কোনও বিস্ফোরক ছিল কিনা এবং ঘটনার পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফরেন্সিক পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই বিষয়টি পরিষ্কার হতে পারে।