অনন্যা সরকার, বাঁকুড়া: জঙ্গলমহল এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে চলেছে নির্মীয়মান পুরুলিয়া – ঝাড়গ্রাম রেলপথ (Purulia Jhargram Rail Line)। এই রেলপথটি বাঁকুড়া জেলার রানিবাঁধ ব্লকের মধ্যে দিয়ে বেলপাহাড়িতে প্রবেশ করবে। ইতিমধ্যেই বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন ঝিলিমিলি এবং সুতানের মতো পর্যটন কেন্দ্রগুলির (Tourist Spot) উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। তৈরি হচ্ছে নতুন রিসোর্ট ও হোম-স্টে। বাঁকুড়া জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত জানিয়েছেন যে, পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম সংযোগকারী প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়িত করতে চলেছে রেল। এছাড়াও, তিনি বলেন, সম্প্রতি ছেন্দাপাথরে পরিদর্শনে যাওয়া হয়। সেখানকার উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে পড়ে থাকা বেশ কয়েক বিঘা সরকারি জমি হস্তান্তরে আগ্রহী হয়েছেন বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ। সেখানে পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা করা যায় কিনা, তা নিয়ে পরিকল্পনা চলছে বলে জানান জেলাশাসক।
বাঁকুড়ার পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ
দক্ষিণ-পূর্ব রেলের আদ্রা-খড়্গপুর শাখা বাঁকুড়ার উপর দিয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি, বিষ্ণুপুর-জয়রামবাটি ও বাঁকুড়া-মশাগ্রাম রুটেও রেল চলাচল হয়। এছাড়া, নামেজিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা পৌঁছানোর জন্য রানিগঞ্জ থেকে গঙ্গাজলঘাটির দুর্লভপুর পর্যন্ত একটি রেলপথ রয়েছে। এদিকে, ছাতনা-মুকুটমণিপুর, বেলিয়াতোড়-দুর্গাপুর, বিষ্ণুপুর-তারকেশ্বর – এই রেল রুটগুলির কাজ চলছে। এই লাইনগুলিতে ট্রেন চলাচল শুরু হলে সারা বাঁকুড়াবাসী উপকৃত হবে। তবে জেলা প্রশাসন জানাচ্ছে, এই মুহূর্তে পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম রেলপথ নিয়েই বেশি আগ্রহী দপ্তর।
আরও পড়ুন: সবাই পাবেন আবাসের পাকা ঘর, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই করুন মেইল
রেল পথের মাধ্যমে পুরুলিয়া কে ঝারগ্রাম এর সঙ্গে যুক্ত করার জন্য বাঁকুড়ার রানিবাঁধ ব্লকের ওপর দিয়ে লাইন পাতার কাজ করতে হবে। আর ওই লাইনটি রানিবাঁধের যে অংশ যাবে, সেই অঞ্চলেই রয়েছে বাঁকুড়ার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র, সুতান। এই এলাকার বিস্তীর্ণ বনাঞ্চলকে ‘বাঁকুড়ার অ্যামাজন’ বলে অভিহিত করা হয়। এখানে পর্যটকদের থাকার জন্য রয়েছে সরকারি বন বাংলো। বাংলোতে থাকার জন্য পর্যটকের লম্বা লাইন পড়ে, তাই বেসরকারি উদ্যোগেও একাধিক হোটেল, রিসোর্ট ও লজ তৈরি হয়েছে সংলগ্ন অঞ্চলে। শোনা যাচ্ছে, এখানে শীঘ্রই মুকুটমণিপুরের মতো যুব আবাস বা সরকারি রিসোর্ট তৈরি হতে পারে।
আরও পড়ুন: ১২৬% বুকিং! চালু হতেই সুপারহিট হাওড়া-কামাখ্যা বন্দে ভারত স্লিপার
পশ্চিমবঙ্গের পূর্বতন সরকারের আমলে শুশুনিয়া পাহাড়, সুতান, ঝাড়গ্রাম, ঝিলিমিলি ও মুকুটমণিপুর জলাধারকে নিয়ে একটি ট্যুরিজম সার্কিট গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে ওই অঞ্চলে পরিবহন ব্যবস্থা ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে সমস্যা থাকায় সেভাবে কাজ এগোয়নি। তবে রেলপথ তৈরি হলে, জঙ্গলমহলের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হবে। ট্রেনে করে কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলি থেকে পর্যটকরা সহজেই এখানে আসতে পারবেন। যেখানে এখনও তাদের ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া বা বাঁকুড়া শহর থেকে গাড়ি ভাড়া করে জঙ্গলমহলের পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে আসতে হয়। পুরুলিয়া থেকে ঝাড়গ্রাম পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের কাজ বাস্তবায়িত হলে জঙ্গলমহলের ভোল পাল্টে যাবে বলেই আশা রাখছেন ওই অঞ্চলের হোটেল ব্যবসায়ীরা।