প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: অবশেষে কাটল জট! রাজ্যে আটকে থাকা রেল প্রকল্প, নতুন রেলপথ ও পরিকাঠামো উন্নয়ন এই সব নিয়েই আজ নবান্নে (Nabanna) শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ও কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হল। সরকার বদলের পর এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গ সফরে এলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaishnaw)। জানা গিয়েছে, বৈঠকে একাধিক রেল প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন রেল প্রকল্প, মেট্রো সম্প্রসারণ এবং স্টেশন আধুনিকীকরণ নিয়েও একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিভিন্ন রেল প্রকল্প নিয়ে বৈঠক নবান্নে
গত ১৫ বছর ধরে মূলত জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা এবং রাজ্য-কেন্দ্রের টানাপোড়েন এই সমস্ত কারণে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রোজেক্টের কাজ সম্পূর্ণ থমকে গিয়েছিল। কিন্তু এবার সরকার পরিবর্তন হতেই সেই প্রকল্পগুলি অবশেষে বাস্তবায়িত হতে চলেছে রাজ্যে। সৌজন্যে রাজ্যের ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার। রিপোর্ট অনুযায়ী, আজ, শনিবার, নবান্নে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে বৈঠক করেন রাজ্যের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিভিন্ন রেল প্রকল্প নিয়ে হয় আলোচনা। শেষে দীর্ঘ বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তাঁরা। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে রাজ্যের প্রত্যেক জেলায় এবার জুড়তে চলেছে রেল মানচিত্রে।
৫৩৮টা ফ্লাইওভার তৈরি হবে বঙ্গে
সাংবাদিক বৈঠকে শুরুতেই একাধিক প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকার জন্য পূর্বতন সরকারের তীব্র সমালোচনা করতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। তিনি জানান, “আগের সরকারের সঙ্গে তো বাংলার সরকারের একটা যুদ্ধ যুদ্ধ ভাবছিল। যার ফলে ১১ কোটি মানুষ একাধিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তবে রেলমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ১০২ টি নতুন অমৃত ভারত স্টেশন হবে। ৫৩৮টা ফ্লাইওভার, আন্ডারপাস হবে। ১ লাখ কোটি টাকার বেশি কাজ হবে।” তিনি আরও জানান, ”পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে বলব ডবল ইঞ্জিন সরকার ৪০ টার বেশি এনওসি রেলওয়েকে দেওয়া হয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে রেলপ্রকল্প হবে।”
কী বলছেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী?
নবান্নে এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে পাশে রেখে সাংবাদিক বৈঠকে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব নিশানা করেন রাজ্যের পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারকে। তিনি বলেন, “আগের সরকার শুধু কোর্টে যেত প্রকল্পের কাজ আটকাতে। বাংলার মানুষকে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করতে একের পর এক রেল প্রজেক্টের কাজ আটকাতে হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্টে পর্যন্ত চলে গেছে। কিন্তু এখন থেকে সেটা আর হবে না, এর জন্য বাংলার মানুষকে ধন্যবাদ। এবার হাত খুলে, মন খুলে কাজ করতে পারবেন সকলে।” বৈঠক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, কলকাতা মেট্রো ৫ বছরের মধ্যে ৬০টি নতুন ট্রেন বা রেক পাবে, এছাড়াও শিলিগুড়ি থেকে দিল্লি বুলেট ট্রেন চালু করা হবে যা মাত্র ৬ ঘণ্টায় পৌঁছনো যাবে।
আরও পড়ুন: এবার ভাঙন লোকসভায়! স্পিকারকে চিঠির প্রস্তুতিতে তৃণমূল সাংসদদের, তালিকায় কারা?
জানা গিয়েছে, ইস্ট-ওয়েস্ট ডেডিকেটেড পণ্যবাহী করিডর চালু হবে। ডানকুনি থেকে সুরাট পর্যন্ত এই করিডরের মাধ্যমে পণ্য পরিবহণ করা হবে। বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি নিজে রেলমন্ত্রীর সঙ্গে চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্পের কাজ দেখতে যাবেন। এই প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরেই শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এদিকে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই বৈঠক শুধু প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দীর্ঘদিন পর বাংলায় কেন্দ্র ও রাজ্যের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সহযোগিতার বার্তা প্রকাশ্যে এল।