অনন্যা সরকার, কলকাতা: রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ হিসেবে সমগ্র বাংলা জুড়ে ‘সেবা সেতু ক্যাম্প’ (Seva Setu Camp) কর্মসূচি চালু হতে চলেছে। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ নাগরিকদের প্রায়ই নানা জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়। ব্লক অফিসে বা পঞ্চায়েতে বারবার গিয়েও মেলে না সুরাহা। রাজুবাসীদের এই প্রশাসনিক ভোগান্তি দূর করতেই এবার রাজ্য সরকারের এই বিশেষ উদ্যোগ। রাজ্যজুড়ে স্থাপিত ‘সেবা সেতু ক্যাম্প’গুলি জনগণের দোরগোড়ায় স্বচ্ছ ও দ্রুত সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেবে। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক কবে শুরু হচ্ছে এই বিশেষ কর্মসূচি ও কী কী সুবিধা মিলবে এই ক্যাম্পগুলিতে।
কবে থেকে শুরু হচ্ছে সেবা সেতু ক্যাম্প?
সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, আগামী ২ অক্টোবর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে এই বিশেষ ক্যাম্পগুলি আয়োজিত হতে চলেছে। প্রতিটি ব্লক ও পুরসভা এলাকায় টানা তিন দিন ধরে চলবে এই কার্যক্রম। নতুন সরকার ‘সেবা সেতু ক্যাম্প’ কর্মসূচির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য – উভয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেবে সাধারণ জনগণের কাছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা ও অভিযোগগুলির দ্রুত সমাধান সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই বিশেষ শিবিরে কৃষকদের সহায়তার জন্য রাজ্যের কৃষকবন্ধু এবং কেন্দ্রের প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি (PM-KISAN) সম্পর্কিত সমস্ত কাজ এখানে করা হবে। এর পাশাপাশি, জনগণের সামাজিক সুরক্ষার জন্য চালু হওয়া প্রকল্প, যেমন – বিধবা ভাতা, বার্ধক্য ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতার মতো পরিষেবা সংক্রান্ত যেকোনও সুবিধা মিলবে। এছাড়াও, পিএম সূর্য ঘর যোজনা, মুদ্রা ঋণ এবং পিএম আবাস যোজনার, পিএম বিশ্বকর্মা যোজনার মতো প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রেও সহায়তা প্রদান করা হবে। এই ক্যাম্পগুলিতে স্বাস্থ্য ও শ্রম বিভাগের অধীনে থাকা বিভিন্ন সুবিধার জন্য আবেদন গ্রহণ করা হবে।
আরও পড়ুন: ছেড়ে চলে গিয়েছেন স্বামী, ছাগলের দুধ খাইয়ে সদ্যজাতকে মানুষ করছেন অসহায় ঝুমাদেবী
শুধু প্রকল্পের আবেদনই নয়, সেবা সেতু ক্যাম্পে মেটানো হবে প্রকল্প সম্পর্কিত নানা সমস্যা। যেমন- আবেদনকারীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রকল্পের টাকা আসার ক্ষেত্রে প্রায়শই নানা প্রযুক্তিগত ও নথিপত্র-সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দেয়। এই ক্যাম্পগুলিতে এবিষয়ে সরাসরি অভিযোগ দায়ের করা যাবে। বিশেষ করে, অন্নপূর্ণা যোজনার সর্ম্পকে বহু সমস্যার কথা শোনা গেছে, এখানে সেগুলির মীমাংসা করা হবে। ক্যাম্পের কর্মকর্তারা আবেদন প্রক্রিয়ায় ত্রুটি, কেওয়াইসি-সংক্রান্ত সমস্যাগুলি খতিয়ে দেখবেন ও সেগুলির সমাধানের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন।
নাগরিকদের সুবিধার জন্য, এই ক্যাম্পগুলির অবস্থান ভৌগোলিক অঞ্চল অনুযায়ী স্থির করা হয়েছে। গ্রামাঞ্চলের মানুষদের পরিষেবা পেতে তাদের নিজেদের ব্লক বা বিডিও অফিসে যেতে হবে। পুরসভা এলাকার বাসিন্দাদের জন্য পৌরসভা অফিসে এই বিশেষ শিবিরের ব্যবস্থা করা হবে। কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দারা তাদের সংশ্লিষ্ট কর্পোরেশন অফিস থেকে পরিষেবা পাবেন। তাই পরিষেবার পাওয়ার জন্য কাউকে দূর দূরান্তে থাকা কোনও প্রশাসনিক দফতরে ছুটতে হবে না।
আরও পড়ুন: পরীক্ষাব্যবস্থার ভোল পাল্টাতে গঠন হল টাস্ক ফোর্স, নয়া বিজ্ঞপ্তি WBCHSE-র
উল্লেখ্য, সেবা সেতু ক্যাম্পে যাওয়ার আগে আবেদনকারীদের অবশ্যই তাদের সমস্ত প্রয়োজনীয় আসল নথি ও তার ফটোকপি সঙ্গে আনতে হবে। পরিচয় পত্রগুলি, যেমন ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, রেশন কার্ড ও ব্যাঙ্ক পাসবুকের প্রথম পাতার একটি স্পষ্ট ফটোকপি সঙ্গে রাখতে হবে। কৃষি ও জমি সংক্রান্ত আবেদনের জন্য, সাম্প্রতিক খতিয়ানের কপি এবং পাসপোর্ট সাইজের ছবির প্রয়োজন হবে। সেবা সেতু ক্যাম্পে যাওয়ার পর, নির্দিষ্ট হেল্পডেস্ক থেকে নির্দিষ্ট ফর্মটি সংগ্রহ করে সঠিকভাবে সেগুলি পূরণ করে জমা দিতে হবে। ফর্ম জমা দেওয়ার পর কর্মীরা আবেদনকারীদের প্রতিটি ফর্মের জন্য একটি রিসিভ কপি দেবেন।