সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ফের মোবাইল ব্যবহারকারীদের পকেটে টান পড়তে চলেছে। সাম্প্রতিক বাজার সমীক্ষায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। সেন্ট্রাম ব্রোকিং এর রিপোর্ট দাবি করছে, 2026 সালের জুলাই মাস থেকে নাকি ভারতের টেলিকম সংস্থাগুলি তাদের রিচার্জ প্ল্যানের দাম 12 থেকে 15 শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে (Recharge Plan Hike)। বিশেষ করে নিজেদের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যই এই পদক্ষেপ নিচ্ছে জিও, এয়ারটেলের মতো সংস্থাগুলি।
কেন বাড়ছে রিচার্জের দাম?
রিপোর্টে বলা হচ্ছে, ভারতীয় টেলিকম সেক্টরে বর্তমানে প্রতিযোগীর সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র হাতেগোনা চারে। যার ফলে কোম্পানিগুলির পক্ষে ট্যারিফ বাড়ানো এখন অনেক সহজ। এছাড়াও সাধারণ মানুষ এখন দ্রুত গতিতে 4G/5G এর দিকে ঝুঁকছে। আর উচ্চগতির ইন্টারনেটের চাহিদা বাড়ার কারণ কারণে কোম্পানিগুলির প্রতি গ্রাহক কিছু গড়ে প্রায় 1% হারে আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। মুনাফার এই ধারা বজায় রাখার জন্যই দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা।
প্রসঙ্গত, সেন্ট্রাম ব্রোকিং এর রিপোর্টে দেশের প্রধান তিনটি টেলিকম সংস্থার বর্তমান অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। যার মধ্যে প্রথমে রয়েছে এয়ারটেল। এই ত্রৈমাসিকে এয়ারটেল সবথেকে বেশি চমক দেখাতে পারে। আনুমানিক 65 লক্ষ নতুন গ্রাহক এয়ারটেল নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। দুই নম্বরে রয়েছে রিলায়েন্স জিও। দেশের বৃহত্তম টেলিকম সংস্থা হিসেবে জিওর সঙ্গে প্রায় 50 লক্ষ নতুন গ্রাহক যুক্ত হতে পারে। আর 95 শতাংশ জেলায় 5G নেটওয়ার্ক পৌঁছে দিয়ে জিও নিজেদের অবস্থান এখন পাকাপোক্ত করে ফেলেছে। তৃতীয় স্থানে রয়েছে ভোডাফোন আইডিয়া। তাদের জন্য লড়াই একটু কঠিন। কারণ, রিপোর্ট অনুযায়ী এই মাসেও সংস্থা 10 লক্ষ গ্রাহক হারাতে পারে।
এদিকে স্মার্টফোনের পাশাপাশি এখন বাড়িতে উচ্চগতির ইন্টারনেটের চাহিদা দিনের পর দিন বাড়ছে। জিও, এয়ারটেল এর 5G নেটওয়ার্ক এখন সারা দেশের প্রায় 90 শতাংশ জেলায় পৌঁছে গিয়েছে। এর ফলে কেবলমাত্র মোবাইল ডেটা নয়, বরং 5G এবং ফাইবার ব্রডব্যান্ডের চাহিদাও আকাশ ছোঁয়া। আর মানুষ এখন মানসম্পন্ন স্ট্রিমিং ও গেমিংয়ের জন্য বেশি পরিমাণে টাকা খরচ করে উচ্চগতির নেটওয়ার্ক লাগাতে চাইছে।
আরও পড়ুন: ৮০ হাজার অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীকে দেওয়া হবে বিনামূল্যে স্মার্টফোন, বড় ঘোষণা রাজ্যের
কত টাকা দাম বাড়তে পারে?
প্রসঙ্গত, যদি জুলাই মাসে সত্যিই 15 শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ে, তাহলে যে রিচার্জের দাম অনেকটাই বাড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বর্তমানে যে প্ল্যানের দাম 300 টাকা, সেটা হয়তো বেড়ে 345 টাকায় পৌঁছবে। মোদ্দা কথা, মধ্যবিত্ত পরিবারগুলির মাসিক বাজেটে অনেকটাই প্রভাব পড়বে তা বলা যায়। এখন দেখার আদৌ জুলাই মাসের দাম বাড়ে কিনা।