সহেলি মিত্র, কলকাতা: প্রযুক্তি যত উন্নত হয়েছে, ফোনকে মাধ্যম করে বেড়েছে জালিয়াতির সংখ্যা। বিগত কয়েক বছরে টাকা হারিয়েছেন বহু মানুষ (Digital Arrest Scam)। সমস্যা রয়েছে, নেই সমাধান। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকেই যেহেতু টাকা লেনদেন হচ্ছে, তাহলে ব্যাংকের ভূমিকা কী? কেন নেওয়া হচ্ছে না কোনো ব্যবস্থা? এক মামলার শুনানিতে এমনই কিছু প্রশ্ন তুলেছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের ভর্ৎসনার মুখে পড়েছে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক।
ডিজিটাল অ্যারেস্ট নিয়ে কড়া সুপ্রিম কোর্ট
ব্যাংক থেকে টাকা উধাও হয়ে যাওয়া সংক্রান্ত খবর আলোচার উঠে আসে সংবাদ মাধ্যমে। ‘ ডিজিটাল অ্যারেস্ট ‘, এই শব্দবন্ধ এখন শোনা যাচ্ছে খুব। এই ডিজিটাল অ্যারেস্ট বিষয়টা কী? ধরুন আপনার কাছে অচেনা নম্বর থেকে ফোন এল। আপনি সেটা রিসিভ করা মাত্র ফোনের ওদিক থেকে, নিজেকে পুলিশ বলে দাবি করে কেউ একজন বললেন ‘আপনার ফোন নম্বর সন্ত্রাসমূলক কাজে ব্যবহার হয়েছে’। যথারীতি আপনার মাথায় দ্রুত ভিড় করতে শুরু করবে দুশ্চিন্তা। এটা হল একটা ফাঁদ। এরপর, ফোনের অপর প্রান্তে থাকা বক্তার বলা কথা অনুযায়ী কাজ করলেই ব্যাংক থেকে টাকা গায়েব! এমন ঘটনা ঘটছে গোটা দেশ জুড়ে। বিষয়টা এখন জাতীয় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, সমস্যার সমাধান করা অবিলম্বে জরুরি, বলেছে সুপ্রিম কোর্ট।
কীভাবে সমস্যার সমাধান হবে?
কীভাবে সমস্যার সমাধান সম্ভব? কোর্টের দাবি, এ ব্যাপারে ব্যাংকগুলোকে আরো সতর্ক হতে হবে। জালিয়াতি রোখার জন্য খাতায় কলমে হয়তো অনেক নিয়মের কথা বলা রয়েছে, সেগুলো বাস্তবে পালন করতে হবে। কারণ, অসঙ্গতি পূর্ণ আর্থিক লেনদেনের ওপর নজর রাখার প্রাথমিক দায় ব্যাংকের।
“একজন অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগী সাধারণত মাসে ১০-২০ হাজার টাকা তোলেন। সেখানে হঠাৎ যদি ২৫ লক্ষ, ৫০ লক্ষ বা ১ কোটি টাকা লেনদেন হয়, তাহলে ব্যাংককেই বিশেষ অ্যালার্ট পাঠাতে হবে”, বলেছেন বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের পরামর্শ, এখন প্রযুক্তি অনেক উন্নত হয়েছে, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে। সন্দেহজনক কোনো লেনদেন হয়ে থাকলে, সেটা গ্রাহককে ব্যাংক আগেভাগে জানাক, বলেছে সুপ্রিম কোর্ট।
বিশেষ নির্দেশ আদালতের
“এআই ব্যবস্থা গ্রাহককে সতর্ক করে না কেন? সন্দেহজনক লেনদেনের একটা স্পষ্ট সংজ্ঞা থাকা জরুরি। ব্যাংকগুলিকে তা বাস্তবে প্রয়োগ করতে হবে, কাগজে-কলমে নয়”, নির্দেশ বেঞ্চের। বেঞ্চের অন্যতম সদস্য বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বেশ কড়া শব্দেই বলছেন যে এই ধরণের ঘটনা ঘটতে থাকলে তার দায়ভার ব্যাংক কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। শুধু নিজেদের মুনাফার কথা না ভেবে, সর্বসাধারণের কথাও ব্যাংকগুলো এবার ভাবুক, শুনানিতে এমনটাই বলা হয়েছে।
“ব্যাংকগুলো এতটাই ব্যবসায়িক মানসিকতায় চলছে যে, অপরাধীদের জন্য অর্থ পাচারের সুবিধাজনক মাধ্যম হয়ে উঠছে। এভাবে চলতে থাকলে ব্যাংকও এই ধরনের অপরাধের অংশীদার হিসাবে বিবেচিত হবে”, বলেছেন জয়মাল্য বাগচী।