তারাপীঠ মন্দিরে চালু হচ্ছে ডিজিটাল লেনদেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যাঙ্কে ঢুকবে দানের রাশি

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: তারাপীঠ মন্দিরের (Tarapith Temple) দানবাক্সের টাকা নিয়ে ক্রমেই উঠছে একাধিক বিতর্ক! এবার স্বচ্ছতা ফেরাতে চালু হতে চলেছে ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা। মন্দির কমিটির তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এবার থেকে প্রতিদিন মন্দিরে জমা হওয়া দান ও তহবিলের অর্থ সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা করতে হবে। শুধু তাই নয়, মন্দিরের আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য নেওয়া হয়েছে একাধিক পদক্ষেপ।

তহবিলের অর্থ জমা করতে হবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে

বিগত কয়েকদিন ধরে তারাপীঠ মন্দিরের দান ও তহবিলের টাকা নয়ছয় করার অভিযোগ উঠে আসছে। তহবিলের টাকা নাকি নিয়মিত ব্যাঙ্কে জমা দেওয়া হচ্ছে না। এদিকে সম্প্রতি এক ধাক্কায় মন্দির কমিটির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় আড়াই কোটি টাকা জমা পড়া নিয়ে নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়েছে। তাই একের পর এক আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবগঠিত তারাপীঠ মন্দির কমিটি। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এবার থেকে প্রতিদিন মন্দিরে জমা হওয়া দান ও তহবিলের অর্থ সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা করা হবে। কিন্তু যদি ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকে, তাহলে পরবর্তী কর্মদিবসেই সেই টাকা জমা দিতে হবে।

খোলা হবে আলাদা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট

মন্দির কমিটির তরফে জানানো হয়েছে, নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ধাপে ধাপে মন্দিরের সমস্ত আর্থিক লেনদেন ডিজিটাল পদ্ধতিতে আনা হবে। এবং এই কাজের জন্য নতুন কর্মীও নিয়োগ করা হবে। এছাড়াও, মন্দিরের বিভিন্ন তহবিলের জন্য আলাদা আলাদা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট করা হবে, এর ফলে প্রতিটি তহবিলের আয়-ব্যয়ের হিসাব পৃথকভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। বর্তমানে তারাপীঠ মন্দিরের তহবিলের জন্য পাঁচটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। পাশাপাশি ছোটখাটো দৈনন্দিন খরচ নগদে মেটানো হলেও বড় অঙ্কের সমস্ত লেনদেন শুধুমাত্র চেকের মাধ্যমে করা হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে কোনও অনিয়মের অভিযোগ উঠবে না।

আরও পড়ুন: ফের ধসে বিপর্যস্ত NH-10, আটকে শতাধিক পর্যটক

প্রসঙ্গত, রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর নতুন মন্দির কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি হয়েছেন হাঁসন বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন বিজেপি প্রার্থী নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সম্পাদক হয়েছেন সেবাইত পুলক চট্টোপাধ্যায়। কমিটির সম্পাদক জানিয়েছেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ব্যাঙ্কিং প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা হবে। তাঁদের একমাত্র লক্ষ্য, মন্দিরের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখা। এছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে যে অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে মন্দির কমিটির অফিস, সেটিও দ্রুত নির্মাণের কাজ করা হবে।

Leave a Comment