তারেকের ভারত সফরের আগেই হাসিনার প্রত্যার্পণ, দিল্লির কাছে দাবি ঢাকার

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: প্রথমবার ভারত সফরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। এদিকে ওপার বাংলার গদিচ্যুত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) ২০২৪ সাল থেকেই নয়াদিল্লিতে। ডিসেম্বরে তিনি দেশে ফিরবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। পাশাপাশি দীর্ঘ দু’বছর পর গত ৫ আগস্ট প্রকাশ্যে মন্তব্য রাখেন মুজিব কন্যা। তবে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের আগে অনুকূল পরিস্থিতি চাইছে ওপার বাংলার সরকার। সেই কারণে ভারত সরকারের কাছে হাসিনা সহ অন্যান্য পলাতক ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা।

হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবি বাংলাদেশের

২০২৪-র ছাত্র আন্দোলনে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনা। তারপর থেকেই ভারত সরকারের ছত্রছায়ায় দিল্লিতে অবস্থান করছেন তিনি। এদিকে গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল ইতিমধ্যেই হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে। তবে তা সত্বেও তিনি ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, “বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন আমি পূরণ করবই। মৃত্যুর ভাই আমি পাই না। ডিসেম্বরেই দেশে ফিরব। যা হওয়ার হবে।”

তবে রবিবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শহিদুল করিম জানান, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে বাংলাদেশ এবং ভারতের কর্মকর্তাদের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনা চলছে। তবে গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলনের কারণে এই প্রক্রিয়াটি ব্যাহত হয়েছে। হাসিনা সেখানকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল কর্তৃক মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই ঢাকা তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।”

আরও পড়ুন: অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের সিম কেনার টাকা দেওয়ার ঘোষণা সরকারের, কীভাবে পাবেন?

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরও সংযোজন, “তারেক রহমানের ভারত সফরের আগে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। এমনটাই মনে করছে বাংলাদেশ সরকার। সেই কারণে ভারত সরকারের কাছে শেখ হাসিনা সহ অন্যান্য পলাতক সন্দেহভাজনদের প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা। এমনকি ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপ করার আবেদন জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক প্রত্যার্পণ চুক্তির আওতায় হাদি হত্যা মামলায় অভিযুক্তদের হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছে। আমরা ভারত সরকারের উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছি।”

Leave a Comment