অনন্যা সরকার, কলকাতা: কন্যা সন্তানের আর্থিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার উদ্দেশ্যে ভারতের লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন (LIC) নিয়ে এসেছে একটি চমৎকার স্কিম, এলআইসি কন্যাদান পলিসি (LIC Kanyadan Policy)। এই স্কিমে বিনিয়োগ করলে, এটি আপনার মেয়ের উচ্চশিক্ষা, ক্যারিয়ার এবং বিয়ে সংক্রান্ত সমস্ত দুশ্চিন্তার খেয়াল রাখবে। এই পলিসিতে প্রতিদিন মাত্র ১২১ টাকা করে সঞ্চয় করে অভিভাবকেরা ২৭ লক্ষেরও বেশি টাকার বিশাল ফান্ড গড়ে তুলতে পারবেন। আসুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক কী কী সুবিধা মিলবে এই এলআইসি পলিসিতে।
এলআইসি কন্যাদান পলিসির সুবিধাগুলি
লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশনের এমন একাধিক প্ল্যান রয়েছে যেখানে দীর্ঘ মেয়াদে টাকা বিনিয়োগ করলে উল্লেখযোগ্য পরিমানে রিটার্ন মেলে। এলআইসি কন্যাদান পলিসিও এরকমই একটি স্কিম, এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা তাদের কন্যা সন্তানের আর্থিক সুরক্ষার জন্য সমস্ত সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। বীমার পাশাপাশি, বিভিন্ন প্ল্যানে একটি নিশ্চিত বীমা রাশি (Sum Assured) প্রদান করা হয়। তাই কেউ যদি আগে থেকে ভালোভাবে পরিকল্পনা করেন, তাহলে বড় অঙ্কের ফান্ড তৈরি করতে সমস্যা হবে না। এই পলিসিটি সেই সমস্ত বাবা-মায়েদের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে, যারা কন্যা সন্তানের শিক্ষা এবং বিয়ে নিয়ে চিন্তায় থাকেন।
এলআইসি কন্যাদান পলিসির অধীনে, অভিভাবকেরা সন্তানের দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার জন্য অল্প অল্প করে টাকা জমাতে পারবেন। প্রতিদিন ১২১ টাকা বিনিয়োগ করে, আপনি প্রতি মাসে ৩,৬০০ টাকা সঞ্চয় করতে পারেন। এর প্রিমিয়ামের পরিমাণ হবে বছরে ৪৩,৫৬০ টাকা। যদি ২২ বছর ধরে এই প্রিমিয়াম দিয়ে যেতে থাকেন, তাহলে মোট জমা হবে ৯.৫ লক্ষ টাকা। তারপর মেয়াদ শেষে, আসল ও সুদ সহ ২৭ লক্ষ টাকা রিটার্ন পাবেন। এর মধ্যে নিশ্চিত অর্থের পাশাপাশি বোনাস এবং অন্যান্য সুবিধা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আরও পড়ুন: ৩৫০ কোটি দিয়ে দিল্লিতে মোদীর বাংলো কিনে নিলেন মুকেশ আম্বানি, কী হবে অ্যান্টিলিয়ার?
এলআইসি কন্যাদান পলিসিটি ১৩-২৫ বছরের জন্য নেওয়া যেতে পারে। এর অধীনে দীর্ঘ সময় ধরে টাকা সঞ্চয় করলে একটি বড় অঙ্কের ফান্ড তৈরি করা সম্ভব। এছাড়াও, এই পলিসিতে আয়কর আইনের ৮০ ধারার অধীনে কর ছাড়ের সুবিধাও পাওয়া যায়। তবে মনে রাখবেন, রিটার্নের পরিমাণ বিনিয়োগকারীর জমা রাখা অর্থ, পলিসির মেয়াদ এবং বোনাসের ওপর নির্ভর করবে।
এই পলিসির নিয়মাবলী ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র
এলআইসি কন্যাদান পলিসি নেওয়ার জন্য আপনার কন্যা সন্তানের বয়স কমপক্ষে ১ বছর হতে হবে। এই পলিসিতে মেয়ের বাবার বয়সের সীমা সংক্রান্ত কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। এই পলিসিতে নিবন্ধন করার জন্য লাগবে – বিনিয়োগকারীর আধার কার্ড বা যেকোনো পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট সাইজের ছবি, ইনকাম সার্টিফিকেট, কন্যা সন্তানের জন্ম তারিখ ও ঠিকানার প্রমাণপত্র।