আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: দেশজুড়ে যখন দেশবাসী দীপাবলির (Diwali) আনন্দে মেতে উঠেছেন, তখন উৎসবের দিনটি দেশের বীর জওয়ানদের সঙ্গে কাটাতে অন্য এক গন্তব্যে পৌঁছে গেলেন নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। এবারের দীপাবলিতে ছত্তিশগড়ের বস্তারে (Bastar) নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে উৎসব পালন করলেন প্রধানমন্ত্রী। একসময় যে বস্তার নকশাল সমস্যার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল, সেখানেই দাঁড়িয়ে সশস্ত্র নকশালবাদের অবসানের কথা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি তাঁর দাবি, অস্ত্রধারী নকশালদের দাপট কমলেও বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে এখনও ‘দিমাগি নকশাল’দের প্রভাব রয়েছে।
কী বক্তব্য রাখলেন প্রধানমন্ত্রী?
রবিবার, ৮ নভেম্বর বস্তারে পৌঁছে করণপুরের CoBRA অপারেশনস বেসে যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে দীপাবলি উদ্যাপন করেন এবং তাঁদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন। দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় CRPF, CoBRA, BSF, ITBP, SSB-সহ বিভিন্ন বাহিনীর ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন তিনি। বিশেষ করে নকশাল দমনে জওয়ানদের আত্মত্যাগ, সাহস ও নিরলস পরিশ্রমের প্রশংসা করেন তিনি। এই কেন্দ্রটি বস্তার ও আবুঝমাড় অঞ্চলে নকশালবিরোধী অভিযানের প্রশিক্ষণ এবং পরিচালনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।
নিরাপত্তারক্ষীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০২৬ সালের দীপাবলি সত্যিই বিশেষ। নকশালবাদ ও মাওবাদী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কয়েক দশকের লড়াইয়ে দেশ জয়ী হয়েছে। এই প্রথম দেশের প্রতিটি জেলা নকশালমুক্ত।” তাঁর কথায়, প্রায় ৪০-৫০ বছর পর এমন দীপাবলি এসেছে, যখন দেশের প্রতিটি জেলা নকশালমুক্ত। এই সাফল্যের পিছনে নিরাপত্তারক্ষীদের অবদান অনস্বীকার্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একইসঙ্গে জওয়ানদের নিজের পরিবারের সদস্য বলে সম্বোধন করে তাঁদের সঙ্গেই উৎসব কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন প্রধানমন্ত্রী।
দিমাগি নকশাল প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জঙ্গল থেকে অস্ত্রধারী নকশালরা চলে গিয়েছে ঠিকই, কিন্তু দিমাগি নকশালরা এখনও শিশুদের বিভ্রান্ত করছে। তারা নতুন প্রজন্মের মস্তিষ্কে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করেছে। আমাদের তাদের চিহ্নিত করতে হবে এবং পরাস্ত করতে হবে।” তিনি আরও বলেন “দিমাগি নকশালরা বিভিন্ন সংগঠন এমনকি রাজনৈতিক দলগুলিতেও নিজেদের প্রভাব বিস্তার করেছে। তারা দেশের সংবিধান ও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে মানুষকে উসকানি দিচ্ছে।”
জওয়ানদের উদ্দেশ্যে মোদি বলেন, “দেশের সীমান্তে যাঁরা রক্ষা করছেন এবং দেশের ভিতরে যাঁরা নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই আমার পরিবারের সদস্য। আগে নকশাল হামলা হত, কিন্তু নিরাপত্তারক্ষীদের প্রকাশ্যে পালটা জবাব দেওয়ার স্বাধীনতা ছিল না। আমরা নিরাপত্তারক্ষীদের প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা দিয়েছি।” তাঁর কথায়, “আজকের সাফল্য আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায়, কিন্তু এটাই শেষ নয়। এই জয় ও সাফল্য নতুন উড়ানের মঞ্চ তৈরি করেছে।”
আরও পড়ুন: রাজ্যে ফের চালু হবে বন্ধ প্রাথমিক স্কুল, বড় ঘোষণা স্কুল শিক্ষামন্ত্রীর
দেশের প্রহরীদের সঙ্গে দীপাবলি পালনের এই ধারাবাহিকতা প্রধানমন্ত্রী ২০১৪ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বজায় রেখেছেন। এই নিয়ে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে তাঁর টানা ১৩তম দীপাবলি উদ্যাপন। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, গত ৪৭ বছরের মধ্যে প্রথমবার গত এক বছরে কর্তব্যরত অবস্থায় কোনও CRPF জওয়ানের মৃত্যু হয়নি। দেশের নিরাপত্তারক্ষীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানানো এবং নকশালপ্রভাবিত এলাকায় উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে সাধারণ মানুষের মনে দাগ কেটেছে।