সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের দিনের পর দিন বাড়ার কারণে সরাসরি ভারতের জ্বালানি বাজারের প্রভাব পড়ছে। মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানেই রেকর্ড চারবার বাড়ানো হয়েছে পেট্রোল, ডিজেলের দাম (Petrol Price)। এমনকি ৮ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে পেট্রোলের। আর এই নতুন দাম বৃদ্ধির পর দেশের সমস্ত মেট্রো শহরে এবার পেট্রোলের দর সেঞ্চুরি পার করে দিয়েছে। কিন্তু এই মূল্যবৃদ্ধির আঁচ আবার সব রাজ্যের মানুষের পকেটে সমানভাবে ফেলছে না।
আমরা যদি একটু রিপোর্ট দেখি, তাহলে বর্তমানে দিল্লিতে এক লিটার পেট্রোলের দাম যেখানে ১০২.১২ টাকা, সেখানে কলকাতায় (Kolkata) সেই দাম ১১৩.৫১ টাকা। আবার মুম্বাইতে একই দাম ১১১.২১ টাকা। আবার চেন্নাইতে ১০৭.৭৭ টাকা। ডিজেলের ক্ষেত্রেও চিত্রটা ঠিক একই রকম। দিল্লিতে এক লিটার ডিজেল বিক্রি হচ্ছে ৯৫.২০ টাকায়। আবার কলকাতায় ৯৯.৪২ টাকায়। বলতে গেলে, রাজ্যভেদে ১০ থেকে ১৫ টাকার বিশাল ফারাক। কিন্তু এর কারণ কী?
জানুন দামের তারতম্যের আসল কারণ
আসলে ভারতের ট্যাক্স বা কর ব্যবস্থার সমীকরণ সহজ করার জন্য জিএসটি চালু করা হলেও পেট্রোল এবং ডিজেলকে এখনও পর্যন্ত জিএসটি কাঠামোর বাইরে রাখা হয়েছে। আর এটাই দামের এই বিপুল তারতম্যের প্রধান কারণ। জ্বালানি তেল জিএসটির বাইরে থাকার কারণে দেশের প্রতিটি রাজ্য সরকার নিজেদের আর্থিক প্রয়োজন অনুযায়ী পেট্রোল এবং ডিজেলের উপর নিজস্ব হারে ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স এবং সেস চাপাতে পারে। এমনকি কেন্দ্র সরকার দেশজুড়ে অভিন্ন কাঠামোতে আবগারি শুল্ক আদায় করলেও খুচরা বাজারে তেলের চূড়ান্ত দাম কীরকম হবে তা সম্পূর্ণ রাজ্যের ভ্যাট কাঠামোর উপর নির্ভর করে। আর্থিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে সমস্ত রাজ্যের রাজস্বের ঘাটতি বেশি থাকে তারা সাধারণত জ্বালানির উপর করের পরিমাণ বেশি রাখে। কারণ পেট্রোল এবং ডিজেল রাজ্যগুলির জন্য রাজস্ব আদায়ের সবথেকে বড় উৎস।
আসলে একেকটি রাজ্য একেক পদ্ধতিতে জ্বালানির উপর কর বসানো হয়। কোনও কোনও রাজ্য সরাসরি শতাংশের ভিত্তিতেই ভ্যাট নেয়। আবার কোনও কোনও রাজ্য শতাংশের সঙ্গে প্রতি লিটারে একটি নির্দিষ্ট অংকের অতিরিক্ত ট্যাক্স যুক্ত করে। এছাড়াও সড়ক উন্নয়ন সেস, পরিকাঠামো উন্নয়ন সেস এবং অতিরিক্ত সারচার্জ রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, তেলেঙ্গানায় পেট্রোলের উপর ভ্যাটের হার প্রায় ৩৫.২% আর ডিজেলের উপর ২৭%, যা দেশের মধ্যে সবথেকে বেশি। অন্যদিকে অন্ধ্রপ্রদেশে শতাংশের বিচারে ভ্যাটের হার ৩১% যা প্রতি লিটার অতিরিক্ত ৪ টাকা এবং ১ টাকা সড়ক উন্নয়ন সেস নেওয়া হয়। এই কারণে অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, কেরালা, মধ্যপ্রদেশে সবথেকে চড়া দামে জ্বালানি বিক্রি হয়।