আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: দুর্গা পুজোয় (Durga Puja) সিপিএমের (Communist Party of India) বইয়ের স্টল (Book Stall) বসানোকে কেন্দ্র করে বিতর্কে নতুন মোড়। উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ-সহ কয়েকটি এলাকায় বইয়ের স্টল বসাতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়েছিল সিপিএম। সেই মামলার শুনানি চলাকালীন অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে এমন বৈষম্য দেখে একাধিক প্রশ্ন তোলে আদালত। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের পর্যবেক্ষণ, একটি সংগঠনকে স্টল বসাতে দেওয়া হলে অন্যদের ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করা উচিত। বিরোধী রাজনৈতিক দলের কণ্ঠরোধ করাটা কি ভারতের গণতন্ত্রে সাজে? এই বিষয়টি গণতন্ত্রের আদর্শের সঙ্গে একেবারেই খাপ খায় না, এমনটাই বক্তব্য তাঁর।
কী বলছেন সিপিএম?
মামলাকারীদের বক্তব্য, দুর্গাপুজোর সময় বইয়ের স্টল বসানো সিপিএমের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। দলের দাবি, প্রায় ৪০-৬০ বছর ধরে বিভিন্ন উৎসবে তারা বইয়ের স্টল বসিয়ে আসছে। কিন্তু এ বছর তার ব্যতিক্রম ঘটেছে। উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয় যশোর রোডের কাছে একটি পুজোমণ্ডপের সামনে স্টল তৈরির কাজে বাধা দেওয়া হয় বলে তাদের অভিযোগ। গত ৬ অক্টোবর সকালে স্টল তৈরির কাজ শুরু হলে হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন বাধা দেন, এমনকি দলের কর্মীদের মারধর ও হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছে সিপিএম। দলের আরও দাবি, তাদের কার্যালয়ের একদম সামনে অন্য একটি সংগঠন অস্থায়ী কাঠামো তৈরি করা হয়, কিন্তু পুলিশ তাতে কোনও হস্তক্ষেপ করেনি।
আদালত জানতে চায়, যশোর রোডের ওই অংশে যে সমস্ত অস্থায়ী স্টল তৈরি হয়েছে বা হচ্ছে, সেগুলির জন্য পূর্ত দফতরের (PWD) অনুমতি নেওয়া হয়েছে তো? বনগাঁ থানার আইসি-কে এ বিষয়ে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি। সিপিএমের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত হলফনামা দিয়ে প্রাসঙ্গিক তথ্য ও নথি জমা দেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়। আদালতের মূল প্রশ্ন ছিল, একই এলাকায় অন্য সংগঠন স্টল বসাতে পারলে সিপিএমের ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম প্রযোজ্য হবে কেন? তারা কেন বাকিদের মতন স্টল বসানোর অধিকার পাবে না? এই বৃহস্পতিবার মামলার শুনানিতে প্যান্ডেলের ১০০ মিটারের মধ্যে সিপিএমকে বুক স্টল বসানোর অনুমতি দিয়েছে আদালত।
আরও পড়ুন: লক্ষ্মীপুজোর পরেই ডিউটি জয়েন! দুর্গোৎসবের ছুটিতে কোপ পড়তে পারে শিক্ষকদের
এই বিষয়ে রাজ্য সরকার তীব্র আপত্তি জানায়। রাজ্যের আইনজীবীদের বক্তব্য, স্টল বসানোর জায়গাটি পূর্ত দফতরের অধীন। সিপিএম সেই দফতরের কাছে অনুমতি না চেয়ে মহকুমাশাসকের কাছে আবেদন করেছিল। উল্লেখ্য, দুর্গাপুজো-সহ বিভিন্ন উৎসবে সিপিএমের বইয়ের স্টল বসানোর দীর্ঘদিনের রীতি রয়েছে। কলকাতার যাদবপুরেও দলের প্রবীণ নেতা বিমান বসুর উপস্থিতিতে একটি বইয়ের স্টল উদ্বোধন করা হয়েছে বলে সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে। কিন্তু বনগাঁর ঘটনায় অনুমতি না পাওয়া এবং অন্য সংগঠনকে স্টল বসাতে দেওয়ার অভিযোগকে গণতন্ত্রের বিরুদ্ধাচরণ বলে অনেকেই দাবি করছেন।