প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) মৃত্যু কামনা করেছিলেন নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)৷ এবার সেই মন্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে দুর্গাপুরে (Durgapur) হুমায়ুন কবীরের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের আয়োজন করলেন বিজেপি কর্মীরা। খাটিয়ায় তাঁর কুশপুতুল নিয়ে গিয়ে রীতিমতো বিধায়কের পারলৌকিক কাজ সম্পন্ন করা হয়। এখানেই শেষ নয়, কাজ মিটে যাওয়ার পরেই তাঁর ছবি মাটির নিচে কবর দিয়ে দেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই ভাইরাল সেই ভিডিও এবং ছবি।
মুখ্যমন্ত্রীর মৃত্যু কামনা হুমায়ুন কবীরের
গত রবিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে হুমায়ুন কবীর প্রকাশ্যেই জানিয়েছিলেন যে, “ক্ষমতা পেয়ে হাতির পাঁচ পা দেখেছে! উপরওয়ালার কাছে দোয়া চাইব, যত তাড়াতাড়ি পৃথিবী থেকে চলে যায় ৷ আল্লাহ তাঁর টিকিট কাটিয়ে দিক৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেদিন নিজের দল থেকে আমাকে বহিষ্কার করেছিলেন, সেদিনও দোয়া চেয়েছিলাম, উনি যেন ক্ষমতাচ্যুত হন, বর্তমান থেকে প্রাক্তন হন৷ আল্লাহ সেকথা শুনেছেন৷ মহারাষ্ট্রের অজিত পওয়ার, মাধবরাও সিন্ধিয়া কিংবা ইন্দিরা গান্ধি, রাজীব গান্ধিদের যেমন হয়েছিল, একেও সেভাবে পৃথিবী থেকে যেতে হবে৷ আস্ফালন, অহংকারের পতন হবে।” এদিকে এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসা মাত্রই রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
হুমায়ুনের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের আয়োজন দুর্গাপুরে
হুমায়ুন কবীরের এই আপত্তিকর বিবৃতির প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার বাসস্ট্যান্ড চত্বরে জোরালো বিক্ষোভ করেছিল বিজেপি যুব মোর্চা। কর্মীরা হাতে কালো পতাকা নিয়ে এবং হুমায়ুন কবীরের কুশপুত্তলিকা খাটে করে সারা রাস্তা ঘুরেছিল। শেষে বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় সেই কুশপুতুলকে কবর দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে দুর্গাপুরের এএমসি টাউনশিপ এলাকার উত্তরপল্লীতে বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল বিজেপির তরফে। সেখানে পুরোহিতের দায়িত্বে ছিলেন বিজেপি ওবিসি মোর্চার সাধারণ সম্পাদক স্বাধীন ঘোষ। তিনি শাস্ত্র মতে মন্ত্রপাঠ ও শ্রাদ্ধ-শান্তির আচার পালন করে কুশপুত্তলিকাটিকে মাটি খুঁড়ে ‘কবর’ দেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুন: অন্নপূর্ণার টাকা ঢুকতেই মসজিদের মাইকে উৎসবের ডাক, আউসগ্রামে আনন্দে মাতলেন মুসলিম মহিলারা
সাধারণ সম্পাদক স্বাধীন ঘোষ জানিয়েছেন, “হুমায়ুন কবীর মুখ্যমন্ত্রীর মৃত্যুকামনা করেছিলেন, তাই আমরা এর প্রতিবাদ স্বরূপ হুমায়ুন কবীরের মৃত্যু কামনা করে তাঁর শ্রাদ্ধ করলাম। এর ৪০ দিন পর নিয়ম মেনে সবাইকে খাওয়ানো হবে।মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন ওঁর বিধায়ক পদ খারিজ করে শীঘ্রই NIA-এর হাতে গ্রেপ্তার করিয়ে ওঁকে প্রেসিডেন্সি জেলে রেখে দিক।