ধর্মের ভিত্তিতে কোনও প্রকল্প নয়, রাজ্যে বন্ধ হল ইমাম-মোয়াজ্জেম-পুরোহিত ভাতা!

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: রাজ্যে বন্ধ হল ধর্মীয় শ্রেণীভিত্তিক সমস্ত প্রকল্প। সোমবার, মন্ত্রিসভার (Government Of West Bengal) বৈঠক শেষ করেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল একেবারে সাফ জানিয়ে দিলেন, এ মাসে প্রকল্পের আওতায় সহায়তা মিললেও আগামী মাস অর্থাৎ জুন থেকে রাজ্যে ধর্মীয় শ্রেণিভিত্তিক সমস্ত প্রকল্প বন্ধ করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, “ধর্মীয় শ্রেণীবিন্যাসের ভিত্তিতে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের প্রদত্ত সহায়তা মূলক প্রকল্প বন্ধ। এ মাসে চলবে। তবে পরের মাস থেকে এটা বন্ধ করা হচ্ছে।”

রাজ্যে বন্ধ হচ্ছে পুরোহিত এবং মোয়াজ্জেম ভাতা?

বিধানসভা নির্বাচনের আগে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার থেকে শুরু করে যুবশক্তি নিয়ে নানান প্রতিশ্রুতি দিলেও রাজ্যে ধর্মের ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রকল্প যেমন মোয়াজ্জেম বা পুরোহিত ভাতা নিয়ে টু শব্দও করেনি বিজেপি। বরং ভাতা নয়, ভাতের ডাক দিয়েছিল ভারতীয় জনতা পার্টি। বাংলায় সরকার ক্ষমতায় আসতেই মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সাংবাদিক বৈঠক করে একেবারে সরাসরি জানিয়ে দিলেন, রাজ্যে ধর্মীয় শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তিতে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের প্রদত্ত সহায়তা মূলক প্রকল্প বন্ধ হবে।

রাজ্য সরকারের ক্যাবিনেটের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর বোঝা যাচ্ছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে চালু হওয়া ইমাম-মোয়াজ্জেম থেকে শুরু করে পুরোহিত ভাতাও বন্ধ হচ্ছে এ রাজ্যে। এর আগে বিজেপির তরফে বারবার অভিযোগ তোলা হয়েছে ধর্মীয় তোষণের রাজনীতি করছে তৃণমূল। তাই ক্ষমতায় আসতেই তড়িঘড়ি ধর্মীয় শ্রেণীবিন্যাসের ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রকল্প বন্ধ করতে চাইছে বিজেপি সরকার।

অবশ্যই পড়ুন: ৩২,০০০ শিক্ষকের চাকরি বাতিল মামলায় নোটিস জারি সুপ্রিম কোর্টের, এবার কী হবে?

উল্লেখ্য, তৃণমূল সরকারের আমলে ইমাম, মোয়াজ্জেমদের প্রতিমাসে 1500 টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হতো। তবে নির্বাচন ঘোষণার ঠিক আগে অর্থাৎ মার্চ মাসে ইমাম, মোয়াজ্জেম এবং পুরোহিতদের ভাতা 500 টাকা বাড়িয়ে 2000 করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলতে অসুবিধা নেই, এই প্রকল্পের দৌলতে দিন-দরিদ্র বহু মোয়াজ্জেম থেকে শুরু করে পুরোহিত পরিবারের পেট চলতো। এবার সেই প্রকল্প বন্ধ করার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন অনেকেই।

Leave a Comment